তাড়াহুড়ো করে নিজের বিয়ের শেরওয়ানি বাসায় ফেলে আসায় রানওয়েতে উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত একটি বাণিজ্যিক বিমান মাঝপথ থেকে ঘুরিয়ে এনেছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক ফার্স্ট অফিসার। ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রটোকল লঙ্ঘন এবং প্রায় ১০০ যাত্রীকে চরম ভোগান্তিতে ফেলা এই নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটেছে আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী এয়ার অ্যাস্ট্রার ফ্লাইট ২এ-৪১৫ (ফ্লাইট সময়: সকাল ১০টা ৩০ মিনিট) ট্যাক্সিওয়েতে থাকা অবস্থায় বিমান বাংলাদেশের ফার্স্ট অফিসার গোলাম রাব্বি প্রিন্স নিজের সরকারি আইডি কার্ড দেখিয়ে এবং ককপিটে গিয়ে প্রভাব খাটিয়ে বিমানটি টার্মিনালে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য করেন। বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর আখ্যা দিয়ে এয়ার অ্যাস্ট্রা এবং সংশ্লিষ্ট পাইলটের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তপূর্বক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
শেরওয়ানি বিভ্রাট ও ৩ ঘণ্টার চরম যাত্রী হয়রানি
সূত্রমতে, ফার্স্ট অফিসার গোলাম রাব্বি প্রিন্স পরিবারের ছয় সদস্যকে নিয়ে চট্টগ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। বোর্ডিং শেষে বিমানটি উড্ডয়নের জন্য ট্যাক্সিওয়েতে এগোতেই তিনি বুঝতে পারেন যে তাঁর শেরওয়ানি বাসায় রয়ে গেছে। তিনি তাৎক্ষণিক বিমান থামানোর দাবি জানালে কেবিন ক্রুরা আন্তর্জাতিক এভিয়েশন নিয়মের দোহাই দিয়ে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গোলাম রাব্বি নিজের অফিসিয়াল আইডি কার্ড বের করে হট্টগোল শুরু করেন এবং একপর্যায়ে ককপিটে প্রবেশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, এয়ার অ্যাস্ট্রার পাইলট তাঁর পূর্বপরিচিত হওয়ায় সব আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিধি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিমানটি ফিরিয়ে আনেন। এরপর বিমানটি প্রায় তিন ঘণ্টা বসিয়ে রেখে বাসা থেকে শেরওয়ানি আনার পর দুপুর ১টার দিকে ফ্লাইটটি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এই দীর্ঘ সময়ে ফ্লাইটে থাকা শিশু ও বৃদ্ধসহ ১০০ যাত্রীকে কোনো খাবার বা পানীয় দেওয়া হয়নি বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
আন্তর্জাতিক এভিয়েশন বিধি লঙ্ঘন ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুংকার
আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) বিধি অনুযায়ী, গুরুতর চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা, নিরাপত্তার হুমকি বা যান্ত্রিক ত্রুটি ছাড়া ট্যাক্সিওয়ে থেকে বিমান ফিরিয়ে আনার কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া কোনো যাত্রী মাঝপথে নেমে গেলে নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁর লাগেজ অফলোড করে পুনরায় সিকিউরিটি রিচেক করতে হয়, যা এয়ার অ্যাস্ট্রা সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করেছে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম এবং বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ জানান, অন্য এয়ারলাইন্সের অফিসার হলেও ওই ফ্লাইটে তিনি একজন সাধারণ যাত্রী ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এদিকে ফ্লাইটের ভুক্তভোগী যাত্রী আফসানা সুলতানা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এই খামখেয়ালিপনার কারণে তাঁর চট্টগ্রামের জরুরি কাজটি পণ্ড হয়ে গেছে এবং ক্ষতিপূরণ না পেলে তিনি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে এয়ার অ্যাস্ট্রার বিরুদ্ধে মামলা করবেন।


















