ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশ এবং ছেড়ে যাওয়া সব ধরনের নৌযানের ওপর আরোপিত দীর্ঘদিনের অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র. বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কমান্ড সেন্টকম (সেন্ট্রাল কমান্ড) আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে. কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনের বরাতে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি সামনে আসে.
সেন্টকমের ঘোষণা ও নৌবাহিনীর অবস্থান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানায় যে, আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগরে অবস্থিত ইরানের বন্দরগুলোতে যাওয়া কিংবা সেখান থেকে বের হওয়া কোনো জাহাজের চলাচলে মার্কিন বাহিনী আর কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করছে না. তবে এই নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হলেও কৌশলগত কারণে অঞ্চলটিতে মার্কিন নৌবাহিনীর নিয়মিত উপস্থিতি ও টহল অব্যাহত থাকবে বলে সেন্টকম স্পষ্ট করেছে. সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে হওয়া সাম্প্রতিক দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার ‘সব দিক’ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও নিশ্চিত করতেই মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ওই এলাকায় মোতায়েন থাকবে. সাম্প্রতিক দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে আঞ্চলিক সামুদ্রিক বাণিজ্য ও মুক্ত নৌ চলাচলের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা.
পেজেশকিয়ান-ট্রাম্প চুক্তি ও সমঝোতার মূল শর্তাবলি
বৃহস্পতিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডিজিটালভাবে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমেই মূলত এই সিদ্ধান্তটি কার্যকর হয়. যদিও সমঝোতার বিস্তারিত শর্ত সম্পর্কে সেন্টকমের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে প্রাথমিকভাবে চুক্তির প্রধান দিকগুলো জানা গেছে:
- যুদ্ধ ও সংঘাত নিরসন: অঞ্চলটিতে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করা এবং লেবানন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার বিষয়টি এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত.
- বাণিজ্যিক রুট উন্মুক্তকরণ: বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে.
- অবরোধের অবসান: ইরানের ওপর মার্কিন বাহিনীর আরোপিত নৌ অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা.
- ভবিষ্যৎ আলোচনা: একটি স্থায়ী ও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে উভয় পক্ষ আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবে প্রত্যাহারের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে নতুন করে একটি আনুষ্ঠানিক আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু করবে.



















