জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষা এবং দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আবারও রাজপথের আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। আজ রবিবার (১২ এপ্রিল, ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে জুলাইয়ের শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন।
নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ‘আবারও আন্দোলনের প্রস্তুতি’
নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন যে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাগুলো হুমকির মুখে পড়ছে।
- লক্ষ্য: তিনি বলেন, “আমরা আবারও আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। এটি কোনো দলের বা জোটের বিষয় নয়, এটি বাংলাদেশকে রক্ষা করার বিষয়। জুলাইয়ের শহীদদের রক্ত যাতে বৃথা না যায়, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।”
- ঐক্যবদ্ধ হওয়া: দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে একই প্ল্যাটফর্মে আসার আহ্বান জানান তিনি।
২. জুলাই যোদ্ধাদের জন্য কার্যকর পদক্ষেপের দাবি
সরকারের বর্তমান কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন:
- উদ্যোগের অভাব: জুলাই অধিদপ্তর ও জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন গঠন করা হলেও বাস্তবে শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে।
- জনগণের প্রত্যাশা: জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণে বাস্তবে কী কাজ হচ্ছে, তা দেশবাসী স্পষ্টভাবে দেখতে চায়।
৩. রাজপথে নেতৃত্বের অঙ্গীকার
বিগত আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে নাহিদ ইসলাম উপস্থিত আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, “আপনারা যারা এর আগে আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, এবার আপনারা সামনে থাকবেন না; আমরাই সামনের সারিতে থাকব।” তিনি ঘোষণা করেন যে, রাজপথের লড়াইয়ে এনসিপি নেতৃবৃন্দ এবারও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
৪. রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও এনসিপি’র অবস্থান
নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, কেবল ক্ষমতা পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রের গুণগত পরিবর্তনই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য। ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের আসামিদের জামিন পাওয়ার মতো ঘটনাগুলো এই নতুন আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরি করছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
আজকের এই সভায় এনসিপি-র অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা অভিযোগ করেন যে, একটি নির্দিষ্ট মহল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্পিরিট নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে, যার বিরুদ্ধে এখনই রুখে দাঁড়ানো প্রয়োজন।



















