আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে. আজ শনিবার (৬ জুন) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডের নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেন. তিনি স্পষ্ট করে জানান, জনস্বার্থে এবং মানুষের মহামূল্যবান জীবনের স্বার্থে আইনানুযায়ী অপরাধীদের কঠোর শাস্তির বিধান নিশ্চিত করা হবে. হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আগামী রোববার বিকেলের মধ্যে এই শোকজের আনুষ্ঠানিক জবাব দিতে বলা হয়েছে এবং সেই উত্তর যদি কোনোভাবে সন্তোষজনক না হয়, তবে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে.
ফৌজদারি মামলা ও তদন্ত প্রক্রিয়া
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন জানান যে, হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর এই সংবেদনশীল ঘটনায় ইতিমধ্যেই একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে. তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি যাই হোক না কেন, সুনির্দিষ্ট তদন্তের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে. উল্লেখ্য, গত ২৭ মে ভোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার পোস্ট-অপারেটিভ (পোস্ট ডেলিভারি) ওয়ার্ডে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছয়টি নবজাতক শিশুর মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটেছিল, যা দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে.
দেশীয় প্রযুক্তিতে দুই পর্যায়ের অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করার পরিকল্পনা
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করতে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবার পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে একটি নতুন পরিকল্পনার কথা জানান. এখন থেকে গ্রাম থেকে উপজেলা এবং উপজেলা থেকে ঢাকামুখী— এই দুই পর্যায়েই বিশেষ অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করা হবে. এছাড়া, দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স উৎপাদন করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাথে ইতিমধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন. এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশেই দুই ধরনের সাশ্রয়ী ও আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে.



















