বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) উত্তরাঞ্চলের তিনটি জেলা—ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী ও দিনাজপুর সফরে রয়েছেন। দীর্ঘ ২৩ বছর পর ঠাকুরগাঁওয়ে তাঁর এই আগমনকে ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। সফরসূচি অনুযায়ী, তিনি সকালে ঢাকা থেকে বিমানে সৈয়দপুর পৌঁছান এবং সেখান থেকে হেলিকপ্টার যোগে ঠাকুরগাঁও জেলা স্কুলের বড় মাঠে আয়োজিত প্রথম নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেন। এই জনসভাটি মূলত দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচনী এলাকা (ঠাকুরগাঁও-১) কেন্দ্রিক, যেখানে তিনি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট চান এবং এলাকার উন্নয়নে বিএনপির নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
ঠাকুরগাঁওয়ের জনসভা শেষে তারেক রহমান নীলফামারী যাবেন এবং সেখানে নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখবেন। এরপর তাঁর সফরের শেষ গন্তব্য দিনাজপুর, যেখানে তিনি জনসভায় ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি পারিবারিক ও আবেগঘন কিছু কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। দিনাজপুরে তিনি তাঁর প্রয়াত নানা ইস্কান্দার মজুমদার, নানি তৈয়বা মজুমদার এবং খালা সাবেক মন্ত্রী খুরশীদ জাহান হকের কবর জিয়ারত করবেন। এ ছাড়াও দিনাজপুর শহরে অবস্থিত ‘তৈয়বা ভিলা’ পরিদর্শনের কথা রয়েছে তাঁর, যেখানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে। জিয়াপরিবারের সাথে দিনাজপুরের এই গভীর পারিবারিক সম্পর্কের কারণে এই সফরটি স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
তারেক রহমানের এই সফরকে ঘিরে উত্তরাঞ্চলের তিন জেলাতেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিআইপি প্রটোকল অনুযায়ী তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানান, এই সফরের মাধ্যমে উত্তরের জনপদে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হবে। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, দলের শীর্ষ নেতার সরাসরি উপস্থিতিতে নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন গতির সঞ্চার হবে এবং এটি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলবে।



















