পাকিস্তানে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর ও কঠোর মন্তব্য করেছেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ইসলামাবাদের এই সংলাপের ফলাফল যা-ই হোক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে নিজেকে ‘বিজয়ী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ‘জয় আমাদেরই’—ট্রাম্পের আত্মবিশ্বাস
ট্রাম্প অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে দাবি করেছেন যে, ইরান কোনো চুক্তিতে সই করবে কি না, তা নিয়ে তিনি মোটেও চিন্তিত নন।
- সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব: তিনি বলেন, “ফলাফল যা-ই হোক না কেন, জয় আমাদেরই। আমরা ওই দেশটিকে (ইরান) সামরিকভাবে পুরোপুরি পরাজিত করেছি।”
- নৌবাহিনী ধ্বংসের দাবি: ট্রাম্প দাবি করেন যে, ইরানের নৌবাহিনী এখন আর অস্তিত্বে নেই। হরমুজ প্রণালীতে তাদের প্রায় ১৫৮টি জাহাজ ও মাইন ফেলার যানগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
- নেতৃত্বহীন ইরান: ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “তাদের নেতারা এখন নেই। এই অবস্থায় তারা চুক্তি করতেও পারে, আবার না-ও করতে পারে। তবে আমেরিকার জন্য এটি কোনো বড় বিষয় নয়।”
২. চীনকে বিশেষ সতর্কবার্তা
আলোচনার মধ্যেই চীনের পক্ষ থেকে ইরানে অস্ত্র পাঠানোর গুঞ্জন নিয়ে ট্রাম্প বেইজিংকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “যদি চীন ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করার চেষ্টা করে, তবে চীনকে অনেক বড় সমস্যার (Big Problems) সম্মুখীন হতে হবে।”
৩. হরমুজ প্রণালী ও জ্বালানি তেল
ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে ‘মাইন সুইপিং’ বা মাইন পরিষ্কার করার কাজ শুরু করেছে।
- ট্যাঙ্কার চলাচল: তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “এখন আমরা বড় বড় সুন্দর ট্যাঙ্কারে তেল ও গ্যাস ভর্তি করে আমাদের দেশের দিকে নিয়ে আসছি। এটি দেখা অত্যন্ত আনন্দের বিষয়।”
- ন্যাটো (NATO)-র সমালোচনা: লোহিত সাগর বা হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তায় ন্যাটো দেশগুলোর সহায়তা না পাওয়ার বিষয়ে তিনি আবারও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
৪. আলোচনার বর্তমান অবস্থা
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন ওয়াশিংটনে এই মন্তব্য করছেন, তখন ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স-এর নেতৃত্বে এক ম্যারাথন বৈঠক চলছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘মনস্তাত্ত্বিক চাপ’ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে:
- চাপ প্রয়োগ: আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে ইরানকে নতিস্বীকার করতে বাধ্য করার জন্যই ট্রাম্প এই ‘উইনার’ ইমেজ ব্যবহার করছেন।
- বিকল্প পথ: ট্রাম্পের কথা থেকে পরিষ্কার যে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করতে দ্বিধা করবে না।
ইসলামাবাদের বৈঠকটি এখন এক অত্যন্ত সংবেদনশীল মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার বৈঠক শেষে সমঝোতা না হওয়ার খবর আসছে, অন্যদিকে ট্রাম্পের এই ‘পরাজিত দেশ’ তত্ত্ব আলোচনার পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা, সিএনএন



















