রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা (৩২) আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করেন। তদন্ত কর্মকর্তা ঘাতক সোহেলের জবানবন্দি রেকর্ড এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটকে রাখার আবেদন জানান। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ আসামি সোহেলের জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্যদিকে, আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক আসামি স্বপ্নাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ প্রদান করেন। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুই আসামিকেই কড়া পাহারায় জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
বাথরুমে ধর্ষণ, লাশ খণ্ডবিখণ্ড করার লোমহর্ষক বর্ণনা: মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অহিদুজ্জামান সংবাদমাধ্যমকে জানান, কীভাবে অবুঝ শিশুটিকে বাথরুমে আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণের পর ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে—সোহেল আদালতে দেওয়া তার জবানবন্দিতে তার পুরো বিবরণ দিয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের দেওয়া তথ্য ও সোহেলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সকালে ফ্ল্যাটের সাবলেট ভাড়াটিয়া সোহেল রানা পাশের ফ্ল্যাটের শিশু রামিসাকে ফুসলিয়ে তাদের বাথরুমে নিয়ে আটকে রাখে। সেখানে ধর্ষণের পর শিশুটি যাতে চিৎকার করতে না পারে, সেজন্য তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এরপর লাশ সম্পূর্ণ গুম করার উদ্দেশ্যে একটি ধারালো ছুরি দিয়ে রামিসার মাথা শরীর থেকে কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে প্রায় অর্ধেক কেটে ফেলা হয়। পরবর্তীতে ধড় বা শরীরটি বাথরুম থেকে টেনে এনে শোবার ঘরের খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয় এবং কাটা মাথাটি বাথরুমের একটি প্লাস্টিকের বালতির ভেতর রেখে দেওয়া হয়।
রামিসা হত্যাকাণ্ডের আইনি ও তদন্তের অগ্রগতি:
┌─────────────────────────┐ ┌─────────────────────────┐ ┌─────────────────────────┐
│ মঙ্গলবার দুপুরে পল্লবী │ ───> │ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে │ ───> │ আদালতে দোষ স্বীকার করে │
│ থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার │ │ প্রধান আসামি সোহেল গ্রেপ্তার│ │ সোহেলের স্বীকারোক্তি │
└─────────────────────────┘ └─────────────────────────┘ └─────────────────────────┘
গ্রিল কেটে পলায়ন ও রামিসার বাবার ক্ষোভের আর্তনাদ: লাশ টুকরো করার মাঝপথেই রামিসার মা নিখোঁজ মেয়ের সন্ধান করতে করতে ওই ফ্ল্যাটের দরজায় অনবরত ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে ঘাতক সোহেল আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। সে তড়িঘড়ি করে ঘরের জানালার গ্রিল কেটে পেছনের পথ দিয়ে পালিয়ে যায়। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরের ভেতরেই অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় স্থানীয় জনতা তাকে আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে মূল ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই ঘটনায় রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে রাতেই পল্লবী থানায় ওই দম্পতিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এদিকে একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা গণমাধ্যমের সামনে চরম ক্ষোভ, হতাশা ও তীব্র আর্তনাদ প্রকাশ করে বলেন, “আমি এই সমাজ বা প্রশাসনের কাছে কোনো বিচার চাই না, কারণ আপনারা প্রকৃত বিচার করতে পারবেন না। আপনাদের দ্রুত বিচার করার কোনো নজির বা রেকর্ড নেই। আমার ফুটফুটে মেয়েটা তো আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। এই ঘটনা বড়জোর আর ১৫ দিন আলোচনায় থাকবে, তারপর নতুন কোনো ঘটনা ঘটলে এটি ধামাচাপা পড়ে যাবে।” এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দ্রুততম সময়ে চার্জশিট দাখিল করে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে পল্লবী থানা পুলিশ আশ্বস্ত করেছে।



















