ইরানে চলমান সামরিক সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ওপেক প্লাস। রবিবার সৌদি আরব ও রাশিয়াসহ জোটের সাতটি দেশ প্রতিদিন ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপেক ত্যাগের ঘোষণার ফলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দেওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্যমতে, আগামী জুন মাস থেকেই এই অতিরিক্ত উৎপাদন শুরু হবে, যার সিংহভাগ জোগান দেবে রিয়াদ ও মস্কো।
জ্বালানি সংকট ও তেলের উচ্চমূল্য মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়, যা বর্তমানে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম ইতিমধ্যে ৪.৪৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ছিল মাত্র ২.৯৮ ডলার। তবে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, সংঘাতের পরিস্থিতি শান্ত হলে বছরের শেষ নাগাদ তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। এদিকে চাহিদা মেটাতে মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলোও তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের খনন যন্ত্রের সংখ্যা বাড়াতে শুরু করেছে।
বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যায় যখন ৭৫৫ কোটি টাকার ফসলহানি হয়েছে এবং সরকার সিলেটে ৪ হাজার কোটি টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পসহ সারা দেশে ‘জিয়া খাল’ পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষি বিপ্লবের চেষ্টা করছে, তখন জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে সেচ ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেখানে একটি স্থিতিশীল ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন, সেখানে বৈশ্বিক এই জ্বালানি সংকট আমাদের অভ্যন্তরীণ বাজার ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নতুন চাপ তৈরি করছে।


















