আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার পরিধি বাড়াতে মুদি দোকানসহ মোট ১৬টি খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা খাতকে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাটের (VAT) সুনির্দিষ্ট করের (Fixed Tax/Specific Tax) আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৪তম দিনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৫ এর সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এই নতুন উদ্যোগ ও বিগত অর্থবছরের ভ্যাট রাজস্ব আয়ের খতিয়ান তুলে ধরেন।
নতুন ভ্যাটের আওতায় আসা ১৬টি ব্যবসা খাত
অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে যে ১৬টি সুনির্দিষ্ট খাতের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ভ্যাটের আওতায় আনা হচ্ছে, সেগুলো হলো:
১. মুদির দোকান ২. তৈরি পোশাক বা কাপড়ের বিক্রেতা ৩. কনফেকশনারি ৪. কসমেটিকসের দোকান ৫. প্লাস্টিক ও সিরামিকের গৃহস্থালি পণ্য ৬. জুতার দোকান ৭. হার্ডওয়্যার পণ্যের বিক্রেতা ৮. ডেকোরেটরস ৯. মোবাইল ফোন, এসি, ফ্রিজ, ওভেন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিকস পণ্যের বিক্রেতা ১০. পেইন্ট ও হার্ডওয়্যার ১১. স্যানিটারি ও ফিটিংস ১২. টাইলসের দোকান ১৩. ঢেউটিনের দোকান ১৪. রড ও সিমেন্ট বিক্রেতা ১৫. ফার্নিচার (আসবাবপত্র) দোকান ১৬. বিউটি পার্লার, মিষ্টান্ন ভান্ডার ও রেস্টুরেন্ট
বিগত অর্থবছরের ভ্যাট রাজস্ব আদায়ের চিত্র
সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, অভ্যন্তরীণ খাত থেকে রাজস্ব আদায়ের গতি বাড়াতে এনবিআর কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শুধুমাত্র মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট বাবদ সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা। এই আয়ের ধারা সচল রাখতে এবং করের জাল আরও বিস্তৃত করতেই দেশের স্থানীয় পর্যায়ের এসব ব্যবসা খাতকে পর্যায়ক্রমে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার এই মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।



















