পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) জেদ্দায় ওআইসি-র ফিলিস্তিন বিষয়ক নির্বাহী সভার সাইডলাইনে বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, ফিলিস্তিন ও গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিনিধিরা এসব বৈঠকে অংশ নেন। আলোচনার শুরুতে বিশ্ব নেতারা বাংলাদেশে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির বিশাল বিজয় এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের দায়িত্ব গ্রহণে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন নেতৃত্বের অধীনে বাংলাদেশ দ্রুত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করবে।
বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও কৌশলগত সাফল্য অর্জিত হয়েছে:
- জাতিসংঘের প্রার্থিতায় সমর্থন: ওআইসি সদস্য দেশগুলো জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে। বিশেষ করে গাম্বিয়া ও ফিলিস্তিন এই প্রার্থিতার পক্ষে আন্তর্জাতিক মহলে প্রচারণার আশ্বাস দিয়েছে।
- ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা ইস্যু: ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভারসেন আঘাবেকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি বাংলাদেশের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে গাম্বিয়ার ভূমিকার প্রশংসা করা হয় এবং আগামী এপ্রিলে বাগদাদে ওআইসি সম্মেলনে এ বিষয়ে যৌথ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত হয়।
- বিনিয়োগ ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক: সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ. এলখরেইজি ‘ভিশন ২০৩০’-এর আওতায় বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ জানান। তুরস্কের প্রতিনিধি মুসা কুলাকলিকায়া ঐতিহাসিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন এবং তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানকে রমজানের পর বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়।
এসব বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এম. জে. এইচ. জাবেদ উপস্থিত ছিলেন। এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনাগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নতুন সরকারের গ্রহণযোগ্যতা এবং মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে শক্তিশালী অংশীদারিত্বের এক নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।



















