পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, বর্তমান সময়ে সরকারকে প্রধানত তিনটি যুদ্ধ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক জরুরি নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, এই তিনটি যুদ্ধের মধ্যে একটি হলো মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি, দ্বিতীয়টি বিগত সময়ের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং তৃতীয় ও সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধটি হলো প্রকৃতির সাথে লড়াই। বিশেষ করে নদীর পাড়ে বসবাসকারী মানুষের জন্য এই লড়াই কতটা জীবনঘাতী, তা ভুক্তভোগীরাই সবচেয়ে ভালো উপলব্ধি করেন।
সিলেট জেলার জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলার নদী ভাঙন রোধে সংসদ সদস্য আবুল হাসানের আনা একটি প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর তীর রক্ষায় সরকার ইতিমধ্যে বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ভারতের বরাক নদী থেকে সৃষ্ট এই খরস্রোতা নদী দুটির ভাঙন রোধে ‘সুরমা কুশিয়ারা নদী অববাহিকার উন্নয়ন এবং বন্যা ও সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক একটি প্রকল্পের প্রথম পর্যায় অনুমোদিত হয়েছে। ৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে, যার দরপত্র আহ্বান কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।
প্রকল্পটির আওতায় জকিগঞ্জের ১৩টি এবং কানাইঘাটের ৪টি স্থানে মোট ৫.৭৭৫ কিলোমিটার জুড়ে নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এই দুই উপজেলার ঘরবাড়ি, কৃষিজমি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পাবে। যেহেতু এলাকাটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত, তাই কাজের সুবিধার জন্য ইতিমধ্যে বিজিবি-বিএসএফ ফ্ল্যাগ মিটিং ও জয়েন্ট রিভার কমিশনের (জেআরসি) আলোচনা চলছে। দুই দেশের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের পরবর্তী বৈঠকের পরই দ্রুত নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



















