চৈত্র মাসের শুরুটা বৃষ্টি আর কালবৈশাখীর স্বস্তিতে কাটলেও মাসের শেষার্ধ থেকে পাল্টাতে শুরু করেছে প্রকৃতির রূপ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি এপ্রিল মাসে দেশজুড়ে তাপমাত্রার পারদ চড়বে এবং একাধিক শক্তিশালী প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতি ও আগামী দিনগুলোর সম্ভাব্য পূর্বাভাস নিচে তুলে ধরা হলো:
১. তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগতি ও তাপপ্রবাহ
মার্চ মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১% বেশি বৃষ্টি হওয়ায় গরম কিছুটা কম থাকলেও এপ্রিলের শুরু থেকেই সূর্যের তাপ বাড়তে শুরু করেছে।
- মৃদু তাপপ্রবাহ: এ মাসে দেশে ২ থেকে ৪টি মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, যেখানে তাপমাত্রা ৩৬°C থেকে ৩৯.৯°C পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
- তীব্র তাপপ্রবাহ: ১-২টি তীব্র তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪২°C এর কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
২. কালবৈশাখী ও বজ্রবৃষ্টির সতর্কতা
তাপপ্রবাহের সমান্তরালে কালবৈশাখীর তাণ্ডবও অব্যাহত থাকবে। এপ্রিল মাসে দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড়, শিলাবৃষ্টি এবং আকস্মিক বজ্রপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। চৈত্র-বৈশাখের এই সন্ধিক্ষণে কৃষকদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৩. বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা
তীব্র গরমের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে এক বা একাধিক লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এর মধ্যে অন্তত একটি নিম্নচাপ ঘনীভূত হয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়ে উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানতে পারে।
৪. মার্চ মাসের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান
- বৃষ্টিপাত: স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১% বেশি।
- সর্বোচ্চ তাপমাত্রা: স্বাভাবিকের তুলনায় ০.৪°C কম ছিল।
সামনের দিনগুলোতে তীব্র গরম ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে জনজীবনে অস্বস্তি বাড়তে পারে। বিশেষ করে দুপুরের কড়া রোদ এড়িয়ে চলা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।



















