ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘোষিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN)। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চীন ইরানে অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, বিশেষ করে ‘ম্যানপ্যাডস’ (MANPADS) বা কাঁধে বহনযোগ্য বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই চাঞ্চল্যকর গোয়েন্দা তথ্যের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. অস্ত্রের ধরন ও সরবরাহ কৌশল
মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী:
- অস্ত্রের শক্তি: চীন মূলত নিচু দিয়ে ওড়া যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ভূপাতিত করতে সক্ষম অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র পাঠাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর এই ধরনের অস্ত্রের উপস্থিতির গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে।
- গোপন পথ: সরাসরি চীন থেকে না পাঠিয়ে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে এই অস্ত্র সরবরাহের চেষ্টা চলছে, যাতে আন্তর্জাতিক চাপ এড়ানো যায় এবং উৎসের সত্যতা গোপন রাখা যায়।
২. চীনের অবস্থান ও কূটনৈতিক দ্বিমুখিতা
এই খবরটি এমন এক সময়ে এল যখন চীন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের দাবি করছে:
- দূতাবাসের বক্তব্য: ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস এই অভিযোগ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, চীন কোনো সংঘাতপূর্ণ পক্ষকে অস্ত্র সরবরাহ করে না।
- বিশ্লেষণ: বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীন একদিকে জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ইরানের সাথে সম্পর্ক অটুট রাখতে চায়, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিরপেক্ষ থাকার কৌশল অবলম্বন করছে।
৩. ট্রাম্প ও শি চিনপিংয়ের আসন্ন বৈঠক
বর্তমান এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের কথা রয়েছে।
- মুখ্য ইস্যু: প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সাথে বৈঠকে ইরান ইস্যুতে চীনের এই গোপন সামরিক সহায়তা নিয়ে ট্রাম্প কঠোর অবস্থান নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
- প্রসঙ্গ: ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহ করার পর থেকে ইরান ও চীনের সামরিক আঁতাত পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৪. যুদ্ধবিরতির ওপর প্রভাব
ইরান ইতিমধ্যে জানিয়েছে যে তারা একটি ‘নতুন’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করছে। যদি এটি চীনের সরবরাহকৃত অস্ত্র বলে প্রমাণিত হয়, তবে শনিবারের ইসলামাবাদ শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত এই ইস্যুটিকে যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের একটি অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চীনের এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রবেশ কেবল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং ইসরায়েলের আকাশ হামলার সক্ষমতাকেও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।



















