আগামী ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নববর্ষ আনন্দঘন ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষ্যে দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল, ২০২৬) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সভায় গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সময়সীমা নির্ধারণ
উৎসবের আমেজ বজায় রাখতে জননিরাপত্তার স্বার্থে অনুষ্ঠানের সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে:
- সমাপনী সময়: রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবরসহ সারাদেশের সকল প্রকাশ্য অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অবশ্যই শেষ করতে হবে।
- প্রবেশাধিকার: বিকাল ৫টার পর এসব এলাকায় নতুন করে কোনো সাধারণ মানুষ প্রবেশ করতে পারবে না।
২. মঙ্গল শোভাযাত্রার বিশেষ নিয়ম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ আয়োজিত বৈশাখী শোভাযাত্রার নিরাপত্তায় বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে:
- মুখোশ ব্যবহার: অংশগ্রহণকারীরা কোনোভাবেই মুখে মুখোশ পরে শোভাযাত্রায় থাকতে পারবেন না। তবে মুখোশ হাতে বহন করা যাবে। প্রদর্শনীর বড় মুখোশগুলো এমনভাবে রাখতে হবে যাতে কারও মুখ ঢাকা না পড়ে।
- অংশগ্রহণ: শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের শুরুতেই মিছিলে যোগ দিতে হবে। মিছিল শুরুর পর মাঝপথ থেকে কেউ এতে প্রবেশ করতে পারবে না।
৩. দেশব্যাপী নিরাপত্তা ব্যবস্থা
- কঠোর নজরদারি: অনুষ্ঠানস্থলগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোন টহল থাকবে। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- বৈচিত্র্যময় উদযাপন: বাংলা নববর্ষের পাশাপাশি চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব নববর্ষের অনুষ্ঠানগুলোতেও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উৎসবের পবিত্রতা ও শান্তি বজায় রাখতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যাতে কেউ নাশকতা বা উশৃঙ্খল আচরণ করতে না পারে।
আগামী মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রীর ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচিসহ সারাদেশে যেসব বড় জমায়েত হবে, সেখানেও এই নিরাপত্তা প্রটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে।



















