ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক অচলাবস্থা কাটাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে রাশিয়া। দেশটি নতুন এক প্রস্তাবের মাধ্যমে জানিয়েছে, ইরানের কাছে থাকা অতিরিক্ত ও উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তারা নিজেদের দেশে নিয়ে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করতে প্রস্তুত। ক্রেমলিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই ইউরেনিয়ামকে প্রক্রিয়াজাত করে পরবর্তীতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উপযোগী জ্বালানি হিসেবে পুনরায় ইরানে ফেরত পাঠানো হবে। মূলত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ নিরসন এবং ইরানের জ্বালানি চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যেই এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে এই সমাধানের কথা বলে আসছে, তবে সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সামরিক কৌশলের প্রশ্নে তেহরান এখন পর্যন্ত এই প্রস্তাবে কোনো চূড়ান্ত সম্মতি দেয়নি।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক মহলে নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে কোনো লিখিত সমঝোতা না হলেও দুই দেশের মধ্যে আলোচনার পথ খোলা রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, খুব শিগগিরই দুই পক্ষ দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসতে পারে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে মার্কিন নৌ-অবরোধের হুমকি এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই আলোচনার গুরুত্ব এখন অপরিসীম। রাশিয়ার নতুন প্রস্তাব এবং ইসলামাবাদে আসন্ন দ্বিতীয় দফা বৈঠকের মধ্য দিয়ে পারমাণবিক ইস্যু ও জ্বালানি সংকট সমাধানে কোনো কার্যকর পথ বের হয়ে আসে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে বিশ্ব সম্প্রদায়।



















