মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিগত নির্মূলের অভিযোগ নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে করা রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানি শুরু হয়েছে। গত সোমবার (১২ জানুয়ারি, ২০২৬) শুনানির প্রথম দিনে মামলার বাদী পক্ষ গাম্বিয়া অভিযোগ করেছে যে, সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের পরিকল্পিতভাবে নির্মূল করার লক্ষ্যেই মিয়ানমার তাঁদের জীবনকে বিভীষিকাময় করে তুলেছে। এক দশকের মধ্যে এটিই প্রথম কোনো গণহত্যার মামলা যা চূড়ান্ত শুনানির পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য ও আইনি তাৎপর্য গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী দাউদা জ্যালো আদালতে ২০১৭ সালের ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’-এর নৃশংসতা তুলে ধরে জানান, ১০ লাখেরও বেশি মানুষ যে মানবেতর পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন, তা আধুনিক ইতিহাসে বিরল। এবারের শুনানির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, প্রথমবারের মতো সরাসরি রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে এই সেশনগুলো গোপন রাখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মামলার রায় গাজা ইস্যুতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান মামলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ আইনি নজির তৈরি করবে।
দীর্ঘ আইনি লড়াই ও প্রত্যাশা ওআইসি-র সমর্থনে ২০১৯ সালে দায়ের করা এই মামলায় এর আগে ২০২২ সালে মিয়ানমারের প্রাথমিক আপত্তিগুলো আদালত খারিজ করে দেন। আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা ১৪ কার্যদিবস এই আইনি লড়াই চলবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আশা করছে, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই বিচারের মাধ্যমে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত হবে এবং নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী অবশেষে ন্যায়বিচার পাবে।
সূত্র: রয়টার্স।



















