ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘোষিত সাময়িক যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হবে কি না, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ জানিয়েছেন, আগামী কয়েক ঘণ্টা এই যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতির জটিলতা ও মূল পয়েন্টগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ইরানের প্রধান শর্ত: লেবাননে হামলা বন্ধ
ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, যেকোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে।
- সাঈদ খাতিবজাদেহ বলেন, “এই অঞ্চলে যেকোনো শান্তির ক্ষেত্রে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। লেবাননে হামলা চালিয়ে শান্তি বজায় রাখা সম্ভব নয়।”
- ইরানের প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনার জন্য যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেও এই শর্তটি তাদের জন্য ‘রেড লাইন’ হিসেবে কাজ করছে।
২. ভিন্নমত: ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর অবস্থান
যুদ্ধবিরতির আওতা নিয়ে বিশ্বনেতাদের মধ্যে বড় ধরণের মতভেদ দেখা দিয়েছে:
- মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দাবি করেছেন যে, লেবাননও এই যুদ্ধবিরতির অংশ।
- ডোনাল্ড ট্রাম্প: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি জানিয়েছেন যে, লেবানন এই যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত নয়।
- বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু: ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আরও কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেছেন, হিজবুল্লাহর হাত থেকে ইসরায়েলকে সুরক্ষিত রাখতে যেখানে প্রয়োজন সেখানেই তারা হামলা অব্যাহত রাখবেন।
৩. কেন আগামী কয়েক ঘণ্টা গুরুত্বপূর্ণ?
বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে ইসরায়েলের চলমান হামলা যদি বন্ধ না হয়, তবে ইরান শনিবারে প্রস্তাবিত ইসলামাবাদ বৈঠক থেকে সরে আসতে পারে।
- ঝুঁকি: যদি ইরান মনে করে যে তাদের মিত্র হিজবুল্লাহর ওপর হামলা অব্যাহত রেখে এই যুদ্ধবিরতি কেবল তাদের হাত পা বেঁধে রাখার কৌশল, তবে যেকোনো মুহূর্তে হরমুজ প্রণালী বা আমিরাতের আকাশে আবারও উত্তেজনা ফিরতে পারে।
- নজরদারি: ইতিমধ্যে চীনা ও ভারতীয় জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকলেও এই অস্থিরতায় তারা আবারও গতি কমিয়ে দিয়েছে।
৪. বর্তমান প্রেক্ষাপট
আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আমিরাতের আকাশে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত না হলেও লেবানন সীমান্ত এবং বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে। এই সংকটের সমাধান না হলে মধ্যপ্রাচ্যে ঘোষিত তথাকথিত ‘শান্তি’ বেশিদিন স্থায়ী হবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের এই অনড় অবস্থান এবং ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা কি শনিবারের ইসলামাবাদ বৈঠককে ভেস্তে দেবে? আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে।
সূত্র: আল-জাজিরা



















