বাংলাদেশের ক্রিকেটে এক নাটকীয় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন দেশের ইতিহাসের সফলতম ওপেনার তামিম ইকবাল। আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল, ২০২৬) বিকেল ৪টার দিকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) কর্তৃক বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার ঘোষণার পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতির চেয়ারে বসেন।
এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. বোর্ড ভেঙে দেওয়ার নেপথ্যে
বিগত ২০২১ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
- তদন্ত প্রতিবেদন: কমিটির প্রতিবেদনে নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়মের প্রমাণ মেলায় এনএসসি বর্তমান পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
- বুলবুলের বিদায়: দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৬ মাস পার হওয়ার আগেই বিদায় নিতে হলো সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে। আজ বিকেলে তিনি ও তাঁর পর্ষদের সদস্যরা নীরবে মিরপুর স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন।
২. ১১ সদস্যের এডহক কমিটি
তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত এই এডহক কমিটির মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ৩ মাস বা ৯০ দিন। কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ক্রিকেটার, আইনজীবী ও ব্যবসায়ীরা:
- সভাপতি: তামিম ইকবাল
- সদস্যবৃন্দ: মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, আতহার আলী খান, রাশনা ইমাম, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, তানজিল চৌধুরী, সালমান ইস্পাহানি, রফিকুল ইসলাম এবং ফাহিম সিনহা।
৩. আইসিসি-কে অবহিতকরণ
এনএসসি ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (ICC) ইমেইলের মাধ্যমে বোর্ড ভেঙে দেওয়া এবং নতুন এডহক কমিটি গঠনের বিষয়টি জানিয়েছে। ৩৭ বছর বয়সী তামিম ইকবাল বিসিবির ইতিহাসের কনিষ্ঠতম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
৪. প্রথম দিনের কার্যক্রম
দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তামিম ইকবাল বিসিবির বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন এবং রাতে এডহক কমিটির প্রথম সভা আহ্বান করেন। মিরপুর বিসিবি প্রাঙ্গণে বিপুল সংখ্যক সমর্থক ও সংবাদকর্মীরা তাঁকে মিছিল ও স্লোগানের মাধ্যমে স্বাগত জানান।
৫. ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
এই এডহক কমিটির মূল দায়িত্ব হবে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের ধারণা, এই নির্বাচনের মাধ্যমে তামিম ইকবাল দীর্ঘ মেয়াদে বিসিবির নেতৃত্বে আসতে পারেন। এছাড়া ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ পুনরুজ্জীবিত করা এবং অভ্যন্তরীণ সুশাসন নিশ্চিত করা তাঁর প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ হবে।



















