সোমবার , ৮ জুন ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

ড. ইউনূস ও নূরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা খারিজ

প্রতিবেদক
Sawkat Shihan
জুন ৮, ২০২৬ ৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

হাম ও রুবেলার ভ্যাকসিন (টিকা) যথাসময়ে আমদানি না করে শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা এবং টিকার অভাবে দেশব্যাপী মহামারি সৃষ্টি করে শিশু মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে দায়ের করা মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত. সোমবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বাদী হয়ে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় এই মামলার আবেদন করেছিলেন. আবেদন-পরবর্তী শুনানি শেষে আদালত এই খারিজের আদেশ প্রদান করেন.

খারিজের কারণ ও বাদীপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ

মামলা খারিজের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদীপক্ষের আইনজীবী সালাউদ্দিন লস্কর জানান যে, তারা দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারার অধীনে মামলাটি আমলে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন. তবে বিজ্ঞ আদালত আরজির ৪০৯ ধারাটি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সম্পর্কিত ধারা বিবেচনায় রেখে মামলাটি খারিজ করে দেন. আদালত তার আদেশে বিস্তারিত উল্লেখ করবেন বলে জানিয়েছেন এবং আদেশের কপি হাতে পাওয়ার পর তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন কি-না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন. মামলায় অভিযুক্ত অন্য তিনজন হলেন— সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব মো. সাইদুর রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর.

মামলার এজাহারে আনীত গুরুতর অভিযোগসমূহ

মামলার বাদী সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান ইকবাল আদালতে উপস্থিত হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন যে, বিগত সরকারের চরম অবহেলার কারণে হামের টিকা না পেয়ে দেশের অনেক শিশু মারা গেছে. মামলার আরজিতে তৎকালীন প্রশাসনের বিরুদ্ধে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়:

  • আমদানি প্রক্রিয়া বন্ধ ও সময়ক্ষেপণ: ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ইউনিসেফের মাধ্যমে প্রচলিত নিয়মিত টিকা আমদানি প্রক্রিয়া আসামিদের নির্দেশে বন্ধ করে দেওয়া হয়. পরবর্তীতে উন্মুক্ত দরপত্র বা ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে টিকা আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও দীর্ঘ দেড় বছর সময়ক্ষেপণ করা হয়, যা দেশে টিকার তীব্র সংকট তৈরি করে.
  • ইউনিসেফের সতর্কবার্তা উপেক্ষা: ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স জানান যে, হাম-রুবেলা টিকার সম্ভাব্য সংকটের বিষয়ে তৎকালীন স্বাস্থ্য বিভাগকে ৫/৬টি চিঠির মাধ্যমে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল এবং আমদানি সচল রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছিল. কিন্তু আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার ও চরম অবহেলা প্রদর্শন করে সেই সতর্কবার্তায় কর্ণপাত করেননি.
  • হামের মহামারি ও শিশু মৃত্যুর পরিসংখ্যান: মামলার আরজির তথ্যমতে, টিকার অভাবে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মহামারি আকার ধারণ করে. গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৭৫,৭০৮ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয় এবং সরকারি তথ্যমতেই দেশে প্রায় ৬১০ জন কোমলমতি শিশুর নির্মম মৃত্যু ঘটেছে.

অভিযোগে মীরসরাইয়ের শিশু আবদুল্লাহ আল ফাহিম, ঢাকার হাসপাতালে মারা যাওয়া আবদুল্লাহ আল নোমান এবং ফাইয়াজ হাসান তাজিমসহ কতিপয় শিশুর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট বিবরণ দেওয়া হয়. বাদী জানান, আসামিরা অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় বনানী থানা কর্তৃপক্ষ মামলা গ্রহণ না করে আদালত বরাবর দায়ের করার পরামর্শ প্রদান করেছিল, যার প্রেক্ষিতে তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন.

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত