তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হঠাৎ উড়োজাহাজ পরিবর্তনের পেছনের আসল কারণ উম্মোচিত হয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস ও সিবিএস নিউজের যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে আকাশপথে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর একটি সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর সিক্রেট সার্ভিস তাঁেক বিমান পরিবর্তনের জরুরি পরামর্শ দেয়।
ঘটনার নেপথ্য কারণ ও সিক্রেট সার্ভিস ডিরেক্টরের বক্তব্যের মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- কাতারের বিমান ও প্রতিরক্ষা ঘাটতি: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আঙ্কারায় গিয়েছিলেন কাতার থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে। তবে পুরোনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ থাকা অ্যান্টি-মিসাইল লেজার প্রযুক্তি বা দূরপাল্লার ক্ষ ক্ষেপণাস্ত্র পথভ্রষ্ট করার মতো অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই নতুন বিমানে এখনো সম্পূর্ণ যুক্ত করা হয়নি।
- মিসাইল হামলার সুনির্দিষ্ট তথ্য: নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ এবং সিক্রেট সার্ভিস জানতে পারে যে ইরানপন্থী ছায়াবাহিনী ট্রাম্প ও তাঁর উড়োজাহাজকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পরিকল্পনা করছিল। ঝুঁকির তীব্রতা বিবেচনায় সিক্রেট সার্ভিস তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাম্পকে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ফিরে যাওয়ার চূড়ান্ত তাগিদ দেয়।
- রাজনৈতিক ঢাকা-চাপা ও সিক্রেট সার্ভিস ডিরেক্টরের সতর্কবার্তা: শুরুতে ট্রাম্প ব্রিটেনে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের বিমান ঘুরে দেখার সুযোগ দেওয়ার বাহানা দিয়ে বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা করলেও পরে মূল তথ্যটি সামনে আসে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, নতুন বিমানে আধুনিক প্রতিরক্ষা সংযোজনের জন্য আগামী শরতে এটিকে সাময়িকভাবে সেবার বাইরে রাখা হবে। এদিকে সিক্রেট সার্ভিস পরিচালক শন কারান জানিয়েছেন, ট্রাম্প ও তাঁর প্রটেক্টিভ টিমের প্রতি বর্তমান হুমকির মাত্রা ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে।


















