গত চার বছরে ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহে ২ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও). সংস্থাটির মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহ এখন দ্রুত একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হচ্ছে. বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বার্লিনে প্রকাশিত ‘তাপ-স্বাস্থ্য কর্মপরিকল্পনা নির্দেশিকা’-এ ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালক ড. হান্স ক্লুগে বলেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই সমন্বিত ও শক্তিশালী নীতিগত পদক্ষেপ প্রয়োজন. না হলে তাপজনিত মৃত্যুর হার ভবিষ্যতে আরও অনেক বাড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন.
ডব্লিউএইচওর নতুন নির্দেশিকা ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সুপারিশসমূহ
ডব্লিউএইচওর নতুন নির্দেশিকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারগুলোর জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়েছে:
- আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা: তাপপ্রবাহের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে কার্যকর আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করা.
- শীতলীকরণ কেন্দ্র স্থাপন: শহরগুলোতে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে পর্যাপ্ত শীতলীকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা.
- নগর সবুজায়ন বৃদ্ধি: নগর এলাকায় গাছপালা রোপণ ও সবুজায়ন বৃদ্ধির মাধ্যমে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা.
- বিশেষ সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ: প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা.
প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের গুরুত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ঝুঁকি
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে যে, ব্যক্তিগত পর্যায়ের সচেতনতা—যেমন পর্যাপ্ত পানি পান করা, ছায়ায় থাকা বা রোদ এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ হলেও একা তা এই বিশাল সংকট মোকাবিলায় যথেষ্ট নয়. এই সংকট কাটিয়ে উঠতে রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বড় ধরনের কাঠামোগত উদ্যোগ প্রয়োজন.
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের অন্যান্য মহাদেশের তুলনায় অনেক দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠছে. এর ফলে বয়স্ক মানুষ এবং আগে থেকেই বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই বর্তমান পরিস্থিতিকে দীর্ঘমেয়াদে আরও ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে.
সূত্র : গালফ নিউজ।



















