শুক্রবার , ২০ জুন ২০২৫ | ৬ই বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

পরমাণু চুক্তি না করলে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আসন্ন!

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুন ২০, ২০২৫ ৪:৪৬ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো দিন ইরানের ওপর হামলা চালাতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন। তবে, ইরান যদি পরমাণু চুক্তি করে, তাহলে বিশ্বের বৃহত্তম পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে পারে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন হামলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে এবং মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীও সেই বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

হোয়াইট হাউজে শেষ মুহূর্তের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা চলছে। ওয়াশিংটনের আকাশে ‘ডুমস ডে’ বিমানের চক্করও প্রস্তুতির বার্তা দিচ্ছে। রাশিয়া, চীন ও ব্রিটেন যুক্তরাষ্ট্রকে এই হামলা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত আছে; দুই দেশই একে অপরের পরমাণু স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।


হামলার প্রস্তুতি ও ট্রাম্পের অবস্থান

ইরান ও ইসরায়েল সংঘাতের সপ্তম দিনে, বৃহস্পতিবার (১৯ জুন), একে অপরের ওপর পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর হামলার কথা ভাবছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বাতিলের শর্তে ট্রাম্প হামলা শুরুর সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখতে পারেন। সিবিএস টেলিভিশন জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানে হামলার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন, কিন্তু হামলা চালানো হবে কিনা, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।

একজন জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা সূত্র সিবিএসকে জানিয়েছেন যে, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বাতিল করতে রাজি হয়, তবে ট্রাম্প হামলা শুরুর সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখবেন। এই খবরটি প্রথম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত হয়। বুধবার (১৮ জুন) ইরানের ওপর ইসরায়েলি হামলায় যুক্তরাষ্ট্র জড়াবে কিনা এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমি এটা করতে পারি, আমি নাও করতে পারি।” এর আগে সিবিএন জানিয়েছে, ইরানের ভূ-গর্ভস্থ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা ফোর্ডোতে মার্কিন হামলার কথা ভাবছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বিবিসির সংবাদদাতা জোনাথন বিল জানিয়েছেন, আমেরিকা গতকাল পর্যন্ত সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি বা ডিয়েগো গার্সিয়াকে কোনো সম্ভাব্য হামলায় ব্যবহার করার জন্য বলেনি। ইরানিরা বলেছে তারা হোয়াইট হাউজের দরজায় ঝুঁকবে না।


‘ডুমস ডে’ বিমানের চক্কর ও সংকেত পরিবর্তন

ওয়াশিংটনের আকাশে ‘ডুমস ডে’ বিমান চক্কর দিয়েছে। জানা যায়, লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের বার্কসডেল সেনা ঘাঁটি থেকে মার্কিন সময় অনুযায়ী সন্ধ্যা ছয়টায় উড্ডয়ন করে বিমানটি। ওয়াশিংটনের আকাশে চক্কর দেওয়ার পর রাত ১০টা নাগাদ ভার্জিনিয়া এবং নর্থ ক্যারোলিনা সীমান্ত ঘুরে অ্যান্ড্রুজ জয়েন্ট বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করে। সাধারণত পারমাণবিক যুদ্ধ পরিস্থিতি বা দেশের জরুরি অবস্থা তৈরি হলে এই বিমান দেখা যায়। এটি কার্যত একটি ক্ষণস্থায়ী যুদ্ধকক্ষের মতো কাজ করে। হামলার আশঙ্কা থাকলে এই বিমানে চড়ে আকাশপথে ঘোরাফেরা করেন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদ থেকে সেনাপ্রধাসহ অন্যান্য কমান্ডাররা। সেখানে বসেই যুদ্ধের কৌশল ঠিক হয় এবং অন্য রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এবার বিমানটির জন্য যে সংকেত ব্যবহার করা হয়েছে তা আগে কখনো হয়নি। এতদিন বিমানটিকে ডাকতে ‘অর্ডার সিক্স’ সংকেত ব্যবহার করা হতো। এবার ব্যবহার করা হয়েছে ‘অর্ডার ওয়ান’, যা এর আগে ১৯৯৫ সালে হারিকেন ঝড়ের সময় এবং ২০০১ সালে নাইন ইলেভেন হামলার পর ব্যবহার করা হয়েছিল।


ইসরায়েলে ইরানের হামলা ও ক্ষয়ক্ষতি

দক্ষিণ ইসরায়েলের বেয়ারশেবার সোরোকা হাসপাতাল ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলার ফলে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনির অস্তিত্ব আর থাকতে দেওয়া যাবে না। ইরান বলেছে, তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল হাসপাতালের কাছে থাকা একটি সামরিক স্থাপনা। ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি এলাকায় রাতভর হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইরানি জনগণের উদ্দেশে বলেছেন, “যদি শত্রু বুঝতে পারে যে আপনি তাদের ভয় পান, তাহলে তারা আপনাকে ছেড়ে দেবে না। এখন পর্যন্ত আপনাদের যে আচরণ ছিল তা চালিয়ে যান; শক্তি নিয়ে এই আচরণ চালিয়ে যান।” ইসরায়েলের সঙ্গে ছয় দিনের যুদ্ধে নাস্তানাবুদ হয়েছিল আরব দেশগুলো (সিরিয়া, মিশর ও জর্ডান), যা ঘটেছিল ১৯৬৭ সালের জুনে। ঠিক ৫৮ বছর পরের জুনে যেন সেই ‘কলঙ্ক’ মুছল ইরান। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) ইসরায়েল-ইরানের মধ্যে চলমান ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ সপ্তম দিনে গড়িয়েছে।


ইরানে ইসরায়েলি হামলা ও সতর্কতা

ইসরায়েলি বাহিনী বলেছে, ইরানের আরাক পারমাণবিক চুল্লিনাতাঞ্জসহ বিভিন্ন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে তারা। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থাকে এসব হামলার কথা জানিয়েছে ইরান। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক হামলা চালানো হচ্ছে। ইসরায়েলি বিমান বাহিনী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) তেহরান এবং অন্যান্য এলাকায় ধারাবাহিক হামলা শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে আরও বিস্তারিত কিছু জানায়নি ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সামরিক অবকাঠামো টার্গেট করার আগে ইরানের আরাক এবং খান্দাবের বাসিন্দাদের ওই এলাকা থেকে সরে যেতে সতর্কতাও জারি করেছিল।


কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান: পুতিন ও জিনপিং

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ফোনালাপে ইরানের ওপর ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দুই নেতা এই সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। ক্রেমলিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ সাংবাদিকদের বলেন, “উভয় পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি একই। তারা ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।” তিনি আরো বলেন, “রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে এই শত্রুতার অবসান ঘটানো উচিত বলে মনে করেন তারা।” এর আগে গতকাল পুতিন সেন্ট পিটার্সবার্গে সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে এক গোলটেবিল বৈঠকে ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাত নিয়ে কথা বলেছেন। ইরান রাশিয়ার সাহায্য চেয়েছে কিনা, বার্তা সংস্থা এএফপি এমন বিষয় জানতে চাইলে পুতিন উত্তর দেন, “আমাদের ইরানি বন্ধুরা আমাদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা (সাহায্য) করেনি।”

এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, “আমি এ বিষয়ে আলোচনা করতে চাই না।” এর আগে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, “আমেরিকার হস্তক্ষেপ পরিবেশকে আরেকটি ভয়াবহ উত্তেজনার দিকে নিয়ে যাবে এবং বিশ্বকে বড় ধরনের বিপর্যয় তথা অস্থিতিশীলতার দিকে যাবে।” ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে আসতে ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমার। তিনি বলেছেন, “এখানে সংঘাত বৃদ্ধির বড় ঝুঁকি রয়েছে।” তিনি সব পক্ষকে কূটনৈতিক সমাধান খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আজ জেনেভায় বৈঠকে বসছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাসের সঙ্গেও তার দেখা করার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ।

সর্বশেষ - অপরাধ