ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধের আশঙ্কায় তেলের দাম যে আকাশচুম্বী হয়েছিল, তা ট্রাম্পের সাময়িক হামলা স্থগিতের খবরের পর নাটকীয়ভাবে কমতে শুরু করেছে।
রয়টার্স ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, তেলের বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো:
১. তেলের দামের পরিসংখ্যান
যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তেলের দাম ১৫ শতাংশের বেশি কমেছে:
- মার্কিন অপরিশোধিত তেল (WTI): দাম প্রায় ১৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪.৫৯ ডলারে নেমে এসেছে।
- ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেল (Brent): দাম ১৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২.৩৫ ডলারে অবস্থান করছে।
২. কেন এই পতন?
গত কয়েক দিনে ইরানের তেলক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলা এবং পাল্টাপাল্টি হিসেবে তেহরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিতে বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়ানোর উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্পের হামলা স্থগিতের ঘোষণা এবং ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটিয়ে দিয়েছে।
৩. বিশ্লেষকদের মতামত ও অনিশ্চয়তা
বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দীর্ঘমেয়াদী স্থিতি নিয়ে এখনো শঙ্কা কাটেনি। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বিশ্লেষক অ্যালেক্স হোলমস মনে করেন:
- টেকসই যুদ্ধবিরতি: এই যুদ্ধবিরতি কতদিন স্থায়ী হবে তা নির্ভর করছে ইসরায়েল ও ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।
- অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ: দুই দেশের মধ্যে আদর্শগত ও ভূ-রাজনৈতিক ব্যবধান অনেক বেশি। তাই বড় বিনিয়োগকারীরা এখনো “অপেক্ষা করে দেখো” (Wait and See) নীতি অনুসরণ করছেন।
৪. বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে বাংলাদেশের জন্য তা বড় স্বস্তি বয়ে আনবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গতকাল সংসদে জানিয়েছিলেন যে মে মাসের তেলের দাম সমন্বয়ের কাজ চলছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দেশের অভ্যন্তরে তেলের দাম না বাড়িয়ে স্থিতিশীল রাখা বা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার ওপর ভিত্তি করে তেলের বাজারের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারিত হবে।



















