বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ, ২০২৬) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি জানান, সরকার অনলাইন ও অফলাইন সমন্বিত বা ‘ব্লেন্ডেড’ (Blended) শিক্ষা পদ্ধতি চালুর বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সপ্তাহে ৬ দিন ক্লাস ও ক্ষতিপূরণ পরিকল্পনা
সাম্প্রতিক বিভিন্ন ছুটি ও আন্দোলনের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে সপ্তাহে পাঁচদিনের পরিবর্তে ছয়দিন ক্লাস চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে আগামী বৃহস্পতিবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকে।
২. অনলাইন ও অফলাইন (ব্লেন্ডেড) শিক্ষা
মন্ত্রী জানান, ট্রাফিক জট ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে মহানগরীগুলোতে কিছু ক্লাস ভার্চুয়ালি বা অনলাইনে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একটি সরকারি জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ও অভিভাবক আংশিক অনলাইন শিক্ষার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে শিক্ষার্থীরা যাতে সামাজিক বিচ্ছিন্নতার শিকার না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
৩. পরিবহন ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন
শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ ও সাশ্রয়ী করতে সরকার কয়েকটি বিশেষ উদ্যোগের কথা ভাবছে:
- শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষায়িত বাস সার্ভিস।
- জ্বালানি সাশ্রয়ে বৈদ্যুতিক বাস (Electric Bus) ও মেট্রো রেলের ব্যবহার বৃদ্ধি।
- সৌরশক্তিচালিত (Solar-powered) পরিবহন ব্যবস্থার প্রচলন।
৪. স্তরভিত্তিক সিদ্ধান্ত
প্রাথমিকভাবে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে এই ব্লেন্ডেড পদ্ধতি চালুর ওপর জোর দেওয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের জন্য ভিন্ন ও স্বতন্ত্র ব্যবস্থাপনা থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মন্ত্রী।
একনজরে প্রস্তাবিত পরিবর্তনসমূহ
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা | প্রস্তাবিত পরিবর্তন |
| সাপ্তাহিক ক্লাস | ৫ দিন | ৬ দিন (ক্ষতি পুষিয়ে নিতে) |
| পাঠদান পদ্ধতি | সরাসরি (Physical) | ব্লেন্ডেড (সরাসরি + অনলাইন) |
| পরিবহন | সাধারণ বাস/ব্যক্তিগত | বৈদ্যুতিক বাস ও সৌরচালিত যান |
| সিদ্ধান্তের তারিখ | আলোচনাধীন | ২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবারের মন্ত্রিসভা বৈঠক) |
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, আগামী ৭ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রভাব বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখার পাশাপাশি জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।



















