বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তাবিত ‘জাতীয় সরকার’ বা ‘ঐকমত্যের সরকার’ গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বিএনপি এককভাবে নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের ব্যাপারে সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী। জামায়াতের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, “রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে আমি কীভাবে সরকার গঠন করতে পারি? তাহলে বিরোধী দলে কে থাকবে?” তারেক রহমান আরও উল্লেখ করেন যে, জামায়াত যদি নির্বাচনে পর্যাপ্ত আসন পেয়ে বিরোধী দলে থাকে, তবে তিনি তাদের একটি শক্তিশালী ও গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে দেখার আশা করেন।
সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেন। তিনি জানান, বিএনপির প্রধান লক্ষ্য হবে তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। ভারতের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট কোনো দেশের দিকে ঝুঁকে না থেকে বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই হবে তাঁর অগ্রাধিকার। তিনি মন্তব্য করেন, “বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে যারা উপযুক্ত অংশীদার হবে, তাদের সঙ্গেই আমাদের বন্ধুত্ব হবে; কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে নয়।”
বিগত সরকারের পতন এবং শেখ হাসিনার পরিবারের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান উদারতা প্রদর্শন করেন। তিনি বলেন, জনগণ যদি কাউকে গ্রহণ করে এবং স্বাগত জানায়, তবে যে কারও রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে। এ ছাড়াও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে তিনি তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি জানান, রোহিঙ্গারা যাতে নিরাপদে এবং সসম্মানে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে, সে লক্ষ্যে তাঁর দল কাজ করবে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয়ের বিষয়টি বিএনপি স্বাগত জানায়। প্রায় দুই দশকের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরা তারেক রহমান এখন দেশের রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
” সূত্র: রয়টার্স



















