ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, উভয় পক্ষ একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সম্মত হয়েছে। আজ সোমবার (২৩ মার্চ, ২০২৬) ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, গত দুই দিনে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ এবং গঠনমূলক’ আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ইরানিরাই তাকে আলোচনার জন্য ফোন করেছে এবং প্রধান প্রধান পয়েন্টগুলোতে দুই পক্ষ একমত হতে পেরেছে। তবে তিনি কোনো চুক্তির শতভাগ নিশ্চয়তা না দিলেও একে একটি ‘দুর্দান্ত সূচনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আলোচনার এই অগ্রগতির কথা জানিয়ে ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানোর যে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন, তা আগামী ৫ দিনের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছেন।
অন্যদিকে, ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাম্পের এই আলোচনার দাবি নাকচ করে দিয়েছে। দেশটির আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কোনো ধরনের সরাসরি বা পরোক্ষ আলোচনা চলছে না। ইরানের মতে, ট্রাম্পের এই দাবি মূলত বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমানো এবং তার সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সময়ক্ষেপণের একটি কৌশল মাত্র। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, আঞ্চলিক দেশগুলো থেকে উত্তেজনা কমানোর কিছু প্রস্তাব এলেও তাদের অবস্থান স্পষ্ট—যারা যুদ্ধ শুরু করেছে, আলোচনার দায়ভার তাদেরই নিতে হবে।
এই পরিস্থিতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নিচে তুলে ধরা হলো:
- ৫ দিনের যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত: আলোচনার স্বার্থে ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে সামরিক হামলা ৫ দিনের জন্য পিছিয়ে দিয়েছেন।
- ইসরায়েলি প্রতিক্রিয়া: ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তিনি ইসরায়েলি নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সম্ভাব্য এই চুক্তির অগ্রগতিতে ইসরায়েল ‘খুবই খুশি’ হবে।
- মধ্যস্থতাকারী: জানা গেছে যে ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার এই আলোচনার প্রক্রিয়ায় যুক্ত আছেন।
- বাজারের প্রভাব: ট্রাম্পের আলোচনার খবরের পরপরই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে।
সূত্র: আল জাজিরা।



















