জেনেভায় চলমান আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে বাংলাদেশ অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছে. মঙ্গলবার (২ জুন) জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়. সম্মেলনে মূল সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন উরুগুয়ের শ্রম ও সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী জুয়ান কাস্টিলো. তাঁর সঙ্গে সহ-সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধি নাহিদার পাশাপাশি আরও দায়িত্ব সামলাবেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টেন কফম্যান এবং আর্জেন্টিনার জেরার্দো মার্তিনেজ. গত ১ জুন অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে আইএলও’র ১৮৭টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের প্রতি সর্বসম্মত সমর্থন জানান, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের কূটনৈতিক সাফল্যের একটি বড় নিদর্শন.
আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনকে (আইএলসি) মূলত বিশ্বের ‘শ্রম সংসদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়, যা আইএলওর সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ও নীতি-নির্ধারণী ফোরাম. শ্রম অধিকার, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার সংক্রান্ত বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণে এই সম্মেলন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে. বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের মতে, এই মর্যাদাপূর্ণ নির্বাচন বৈশ্বিক শ্রম ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ, শোভন কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ, শ্রমিকের অধিকার সুরক্ষা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দেশের অঙ্গীকারের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গভীর আস্থারই প্রতিফলন. এর মাধ্যমে শ্রম খাতে উদ্ভূত নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশের ভূমিকারও বড় ধরনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলল.
কাজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রতি বছর আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বজুড়ে সরকার, শ্রমিক সংগঠন এবং নিয়োগকর্তাদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন. এবারের সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় পাঁচ হাজার প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন. এই সম্মেলনে সহ-সভাপতির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে বাংলাদেশ এখন আইএলওভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বিভিন্ন শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক নীতিগত ইস্যুতে মতৈক্য গড়ে তুলতে এবং নীতিনির্ধারণী আলোচনায় অত্যন্ত সক্রিয় ও অগ্রণী ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবে.



















