পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা কারচুপির অভিযোগকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা (সিইও) মনোজ কুমার আগরওয়াল বুধবার এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ভোট গণনায় কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা এবং বিধি মেনেই প্রতিটি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগগুলোকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ হিসেবে অভিহিত করে কমিশন জানিয়েছে, কলকাতা দক্ষিণের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট প্রদান করা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি প্রক্রিয়াকে আইনসম্মত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ ও পাল্টা যুক্তি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন যে, গণনাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং অন্তত ১০০টি আসন ‘লুট’ করা হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, এসব দাবি সম্পূর্ণ ‘মনগড়া’। গণনাকেন্দ্রে ধাক্কাধাক্কি বা তাঁকে বের করে দেওয়ার যে অভিযোগ মমতা তুলেছেন, তারও কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য যে, নিজের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি ভবানীপুরে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫,১০৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই তৃণমূল নেত্রী এই আক্রমণাত্মক অবস্থান গ্রহণ করেছেন।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ বর্তমানে যখন ওপার বাংলায় এই রাজনৈতিক অচলাবস্থা চলছে, তখন বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ চলছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বর্তমানে চীন সফরে রয়েছেন এবং আজই তাঁর চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হবে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নতুন সরকারের গঠন আমাদের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও পানিবণ্টন কূটনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।



















