যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, তা নিয়ে দেশটির নীতিনির্ধারক মহলে তৎপরতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। উত্তরসূরি নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ৮৮ সদস্যের শক্তিশালী ধর্মীয় পর্ষদ ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ (Assembly of Experts) ইতোমধ্যে একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ ঐকমত্যে পৌঁছেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সংস্থাটির সদস্য আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি আজ রোববার (৮ মার্চ) ইরানি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, নতুন নেতা নির্বাচনের বিষয়ে সদস্যদের মধ্যে একটি দৃঢ় সমঝোতা তৈরি হয়েছে, তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে কিছু কৌশলগত প্রতিবন্ধকতা দূর করার কাজ চলছে।
বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পর্ষদের সদস্যরা সশরীরে উপস্থিত হতে না পারায় ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে। পর্ষদের অন্য এক সদস্য আয়াতুল্লাহ মহসিন হায়দারি আলেকাসির ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এমন একজনকে মনোনীত করা হয়েছে যাকে খামেনি নিজেই পছন্দ করতেন এবং যাকে পশ্চিমা বিশ্ব বা ‘বড় শয়তান’ (যুক্তরাষ্ট্র) অপছন্দ করে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বর্ণনার সঙ্গে খামেনির দ্বিতীয় ছেলে মোজতাবা খামেনির নাম সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইতোমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মোজতাবা খামেনিকে তাঁর বাবার উত্তরসূরি হিসেবে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন।
মোজতাবা খামেনি দীর্ঘকাল ধরে নেপথ্যে থেকে ইরানের শক্তিশালী বিশেষ বাহিনী ‘রেভল্যুশনারি গার্ডস’ (IRGC)-এর সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করে আসছেন। পর্ষদের সদস্যরা দ্রুত এই ঘোষণা দেওয়ার পক্ষে থাকলেও, দেশে বংশানুক্রমিক নেতৃত্বের (Hereditary Rule) বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কায় কেউ কেউ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। তবে বর্তমান সামরিক অস্থিরতার মধ্যে নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণে খুব শীঘ্রই—সম্ভবত আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই—নতুন সর্বোচ্চ নেতার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স



















