ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় জনপ্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আজ সোমবার পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিনকে তাঁদের বর্তমান পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে নতুন সরকার গঠনের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে এ বি এম আবদুস সাত্তার দায়িত্ব পালন করছেন।
সচিবালয় সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই পরিবর্তন কেবল শুরু। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ খালি হওয়া পদগুলোতে দ্রুতই নতুন নিয়োগ আসতে পারে। একই সাথে জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং পুলিশসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলোতেও বড় রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যে প্রশাসনিক পুনর্গঠন শুরু হয়েছিল, নতুন সরকার সেই ধারা বজায় রেখে দলীয়করণের ঊর্ধ্বে উঠে দক্ষ প্রশাসন গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে প্রশাসনে ১৬ জন কর্মকর্তা চুক্তিতে নিয়োজিত রয়েছেন, যাদের বিষয়েও নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লিখিত ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’ গড়ার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে মেধা, সততা ও দক্ষতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করছে যে, এই পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় কোনো কর্মকর্তা যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার না হন এবং যোগ্যরা যেন বঞ্চিত না হন। নতুন সরকারের এই প্রশাসনিক সংস্কার কার্যক্রমের দিকে এখন তাকিয়ে আছেন সকল স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সচেতন নাগরিক সমাজ।


















