প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে জাতির উদ্দেশে তাঁর প্রথম ভাষণে একটি আধুনিক, স্বনির্ভর এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। রাত পৌনে ১০টায় শুরু হওয়া এই ভাষণে তিনি দেশের তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “প্রযুক্তির সিঁড়ি বেয়ে বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে পদার্পণ করেছে; আমাদের লক্ষ্য হবে তরুণদের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলা এবং বিশ্ববাজারে তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।”
সরকারের নীতিনির্ধারণী দর্শনে ব্যাপক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এক নজিরবিহীন ঘোষণা প্রদান করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, বিএনপির কোনো সংসদ সদস্য সরকারি বিশেষ সুবিধায় শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি করবেন না এবং কোনো সরকারি প্লট সুবিধাও নেবেন না। রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে কৃচ্ছ্রতা সাধন এবং ভিভিআইপি মুভমেন্টের কারণে জনদুর্ভোগ এড়াতে তিনি সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেন যে, আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলভিত্তি এবং দলমত নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিক রাষ্ট্রে সমান অধিকার ভোগ করবেন।
আসন্ন পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, অনাচার ও অনিয়মের সকল মাফিয়া সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে তাঁর সরকার বদ্ধপরিকর। রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সেহরি, ইফতার ও তারাবির সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে তিনি ইতোমধ্যে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর ভাষণে ‘জুলাই বিপ্লবের’ শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার বারবার প্রতিফলিত হয়েছে।



















