মৃতের সংখ্যা নিয়ে দাপ্তরিক ও বেসরকারি তথ্য ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে প্রাণহানির সংখ্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি, ২০২৬) বার্তা সংস্থা রয়টার্স-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, দেশজুড়ে সহিংসতায় মৃতের সংখ্যা ২,০০০ ছাড়িয়ে গেছে। তবে তিনি নিহতদের বড় অংশকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে, মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম যেমন টাইম ম্যাগাজিন ও ইরান ইন্টারন্যাশনাল দাবি করছে, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ৬,০০০ থেকে ১২,০০০ পর্যন্ত হতে পারে।
বিক্ষোভের তীব্রতা ও দমন-পীড়ন গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুতই শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নেয়। রাজধানী তেহরানসহ ছোট-বড় কয়েক ডজন শহরে কয়েক লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছে। মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ বর্তমান পরিস্থিতিকে আশির দশকের ভয়াবহ দমন-পীড়নের সাথে তুলনা করে গণ-মৃত্যুদণ্ড ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট থাকায় সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
মার্কিন নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ ইরানে অস্থিতিশীলতা চরম আকার ধারণ করায় ট্রাম্প প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং তেহরানের জন্য নির্ধারিত ভার্চুয়াল অ্যাম্বাসি থেকে এক জরুরি বার্তায় সকল মার্কিন নাগরিককে অবিলম্বে ইরান ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আকাশপথ সীমিত হয়ে আসায় তাঁদেরকে সড়কপথে তুরস্ক বা আর্মেনিয়া হয়ে দেশ ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে।



















