শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ও বিচারিক প্রক্রিয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পরপরই এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বার্তা দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) বিকেলে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরাসরি ভারত সরকারের কাছে ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর দাবি জানান। তিনি বলেন, “আমরা আইন অনুযায়ী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি জানাচ্ছি। বিচারের মুখোমুখি করার জন্য তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো এখন সময়ের দাবি।” সালাহউদ্দিন আহমদ আরও যোগ করেন যে, এটি দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয় এবং বিএনপি আশা করে ভারত সরকার গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তাঁকে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করবে।
আওয়ামী লীগ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন এবারের নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের কোনো অভিযোগের ভিত্তি নেই উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ জানে এটি একটি অত্যন্ত অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়েছে। মানুষ ২০২৪ সালের আগস্টেই আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যান করেছে।” তিনি আরও জানান যে, আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে বর্তমানে বিভিন্ন তদন্ত চলমান রয়েছে এবং প্রসিকিউশন দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, আওয়ামী লীগের কৃতকর্মের বিচার দেশের প্রচলিত আইনেই সম্পন্ন হবে।
পররাষ্ট্রনীতি ও আঞ্চলিক সম্পর্ক নির্বাচন পরবর্তী বৈদেশিক সম্পর্কের রূপরেখা তুলে ধরে এই প্রবীণ নেতা বলেন, বিএনপির পররাষ্ট্রনীতি হবে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। তবে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমতা, আত্মমর্যাদা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বিষয়টি হবে মূল ভিত্তি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে সমুন্নত রেখেই ভারতসহ সব প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে একটি সুস্থ ও স্থিতিশীল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখতে নতুন সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।



















