মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশিসহ মোট ছয়জন নিহত হয়েছেন. রোববার (২১ জুন) সকালে দেশটির আল শাহানিয়া এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে. নিহত পাঁচ বাংলাদেশির সবার বাড়িই সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ি গ্রামে. নিহত অন্য ব্যক্তি একজন ভারতীয় নাগরিক.
নিহতদের পরিচয় ও দুর্ঘটনার বিবরণ
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো পাঁচ বাংলাদেশি রেমিট্যান্সযোদ্ধা হলেন:
- জসিম উদ্দিন (সিলেটের কানাইঘাট)
- জিবাল উদ্দিন (সিলেটের কানাইঘাট)
- মস্তাক আহমদ (সিলেটের কানাইঘাট)
- জুবায়ের আহমদ (সিলেটের কানাইঘাট)
- কাদের আহমদ (সিলেটের কানাইঘাট)
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সকালে প্রবাসীরা একটি পিকআপ ভ্যানে করে তাদের কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন. গাড়িটি আল শাহানিয়া এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং পিকআপটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে. এতে ঘটনাস্থলেই চালকসহ ওই ছয়জনের মৃত্যু হয়. দুর্ঘটনার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মরদেহগুলো উদ্ধার করে কাতারের একটি হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করেছে.
মরদেহ দেশে আনা ও সরকারি উদ্যোগ
জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন কাতারের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ মালেক এবং কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সহসভাপতি তাওহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন, বাংলাদেশ দূতাবাস ও প্রবাসী সংগঠনগুলোর সহায়তায় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহগুলো দ্রুত দেশে পাঠানোর জোর প্রচেষ্টা চলছে, যাতে স্বজনরা শেষবারের মতো তাদের দেখতে পারেন এবং ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন করা যায়. এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে পুরো কানাইঘাট এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে.
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক. এক শোকবার্তায় তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান. দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের আকস্মিক মৃত্যুকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক আখ্যা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দিতে কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংকে জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে.



















