প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনা এবং ভুয়াদের চিহ্নিত করাই ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। ড. ইউনূস আক্ষেপ করে বলেন, অতীতে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সংস্থাকে ‘খেলার পুতুল’ বানানো হয়েছিল, যা থেকে বের করে এনে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবারও মর্যাদার আসনে বসানোর চেষ্টা করছে তাঁর সরকার।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা নতুন প্রজন্মের কাছে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “যুদ্ধ তো একটা না, সামনে আরও যুদ্ধ আসবে। আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ যেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অনুপ্রেরণা হিসেবে থাকে।” বীর মুক্তিযোদ্ধারা আক্ষেপ করে জানান যে, গত ১৬ বছরে রাজনৈতিক অপব্যবহারের কারণে তাঁদের পরিচয় দিতেও কুণ্ঠিত হতে হতো। তবে বর্তমান সরকার সংজ্ঞা পরিবর্তন ও ভুয়াদের গেজেট বাতিল করায় তাঁরা হারানো সম্মান ফিরে পাচ্ছেন। বৈঠকে চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে একাত্তরের উত্তরসূরি হিসেবে অভিহিত করে বলা হয়, উভয় সংগ্রামই ছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে এবং একাত্তর-চব্বিশকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম জানান, বিগত সরকার চেতনার বুলি আওড়িয়ে যে বৈষম্য সৃষ্টি করেছিল, তা জঞ্জালমুক্ত করার কাজ চলছে। বীর মুক্তিযোদ্ধারা ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে তাঁদের সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং সংস্কার কার্যক্রম সফল করার আহ্বান জানান। ড. ইউনূস কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, সংবিধান সংস্কারের যে সুযোগ গণ-অভ্যুত্থান এনে দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন না করলে দেশ আবারও পুরনো বৃত্তে আটকে যাবে। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্বস্ত করেন যে, সরকারে না থাকলেও একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তিনি সবসময় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে কাজ করে যাবেন।



















