ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফিরে সরাসরি বা স্বাধীনভাবে আত্মসমর্পণের কোনো আইনি সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। আজ রবিবার (১২ জুলাই, ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই চাঞ্চল্যকর আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। চিফ প্রসিকিউটর সাফ জানিয়ে দেন যে, শেখ হাসিনা চাইলেই সাধারণ বা স্বাধীন নাগরিকদের মতো নিজের ইচ্ছায় সীমান্ত পার হয়ে বা বিমানবন্দরে এসে দেশে ফিরতে পারবেন না।
মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক নির্বাসনে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দেশের সর্বোচ্চ আদালত ও ট্রাইব্যুনাল থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও সাজা কার্যকর করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে তিনি যদি বাংলাদেশে ফিরতে চান বা তাঁকে ফেরত আনা হয়, তবে অবশ্যই বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তি (MUTUAL LEGAL ASSISTANCE TREATY), বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি এবং কূটনৈতিক আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই আসতে হবে।
চিহ প্রসিকিউটর স্পষ্ট করে বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে শেখ হাসিনা যখনই দেশের মাটিতে পা রাখবেন, তখনই আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সীমান্ত কর্তৃপক্ষ তাঁকে একজন দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হিসেবে সরাসরি গ্রেফতার করতে বাধ্য। বিমানবন্দর বা সীমান্ত থেকেই সরাসরি রাষ্ট্রীয় হেফাজতে নিয়ে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে কোনো আসামির সরাসরি আদালতে এসে সাধারণ প্রক্রিয়ায় আত্মসমর্পণের আবেদন করার বা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার কোনো সুযোগ দেশের বিদ্যমান আইনে নেই। সরকার কূটনৈতিক চ্যানেলে তাঁকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকরের আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে বলে ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে।



















