সোমবার , ১৫ জুন ২০২৬ | ৩রা আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

বাজেট বরাদ্দের স্বচ্ছ বাস্তবায়নই সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুন ১৫, ২০২৬ ৩:১০ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

প্রস্তাবিত বাজেটটি স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ এবং বিগত সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ. তবে বরাদ্দের অঙ্ক বড় হলেও অতীতে উন্নয়ন বাজেট বা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রেকর্ড খুব একটা উৎসাহব্যঞ্জক নয়. প্রকল্প অনুমোদনে বিলম্ব, জটিল ক্রয়প্রক্রিয়া, দক্ষ ব্যবস্থাপনার অভাব এবং প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার কারণে বরাদ্দের বড় অংশ সময়মতো বাস্তবায়িত হয় না. ফলে কাগজে-কলমে বরাদ্দ বাড়লেও মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষ এর পূর্ণ সুফল পায় না.

থোক বরাদ্দ ও বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ

এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ২৭ হাজার কোটি টাকার একটি থোক বরাদ্দ বেড়েছে, তবে রেগুলার বাজেট বাড়েনি. বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর অপারেটিং বাজেট বাড়ানোর মতো পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় এই থোক বরাদ্দ বাড়িয়ে রেখেছে. বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশাল বরাদ্দের পুরোপুরি স্বচ্ছ বাস্তবায়নই এখন সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ:

  • দুর্নীতির পথ বর্জন: আগের ধারাবাহিকতায় শুধু কেনাকাটা এবং বিল্ডিং তৈরি—অর্থাৎ যেসব জায়গায় বিশাল দুর্নীতির সুযোগ রয়েছে, সেখানে অর্থ ব্যয় করলে এই বরাদ্দ অর্থহীন হয়ে যাবে.
  • নতুন পথের সুযোগ: সরকারের সামনে এখন আগের কর্দমাক্ত, জটিল ও দুর্নীতির পথ পরিহার করে জনগণের স্বাস্থ্যসেবার জন্য একটি নতুন পথ তৈরি করার এবং স্বাস্থ্য খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার বড় সুযোগ রয়েছে.
  • দ্রুত প্রকল্প প্রণয়ন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ জানান, বাজেট থেকে সাধারণ মানুষ কী পাবে তা নির্ভর করবে এই থোক বরাদ্দ কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হলো তার ওপর. সরকার যত তাড়াতাড়ি প্রজেক্ট বা প্রকল্প প্রণয়ন করতে পারবে, তত তাড়াতাড়ি এই টাকা ব্যয়ের সুযোগ পাবে. তাই জুলাই পর্যন্ত অপেক্ষা না করে এখন থেকেই প্রকল্প গ্রহণ, প্রণয়ন ও অনুমোদনের কাজ শুরু করা উচিত.

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য ও হাসপাতালের নৈরাজ্য

স্বাস্থ্য খাতের বাজেট নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বাজেট বাস্তবায়নকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে স্বীকার করেছেন. তিনি বলেন, অনেকেই এই বাজেটকে জনতুষ্টির বাজেট বললেও এটি আসলে একটি ‘জন-আকাঙ্ক্ষার বাজেট’. স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা ও নৈরাজ্যের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন:

  • দালাল ও বাটপারের খপ্পর: সাধারণ মানুষ হাসপাতালে ঢুকতেই দালাল, বাটপার ও বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির খপ্পরে পড়ে হেনস্তার শিকার হচ্ছে.
  • স্টাফদের চেনার জটিলতা: হাসপাতালে আউটসোর্সিং স্টাফ ও নিয়মিত স্টাফদের চেনা মুশকিল হয়ে পড়েছে, যা এক ধরনের নৈরাজ্য তৈরি করেছে.
  • জনবল সংকট: তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের চরম ঘাটতি রয়েছে. যেখানে ১০ জন থাকার কথা, সেখানে আছে মাত্র ৫ জন.
  • বিনামূল্যে ওষুধ ও পরীক্ষা: মানুষ আশা করে হাসপাতালে গেলে অন্তত কিছু ওষুধ ও পরীক্ষানিরীক্ষা বিনামূল্যে পাবে. বর্তমান এই অবস্থা থেকে দ্রুত উত্তরণ চান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আর পরমুখাপেক্ষী বা অনুদান নির্ভর দেশ নয়; দেশের ভেতরের রিসোর্স, মেধা ও সফলতার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্য খাতকে এগিয়ে নেওয়া হবে.

জনস্বাস্থ্যবিদ ও অর্থনীতিবিদদের সুপারিশমালা

স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও অর্থ ব্যয়ের সঠিক ক্ষেত্রগুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞরা গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিয়েছেন:

বিশেষজ্ঞ ও পদবিপ্রধান পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশসমূহ
ডা. লেলিন চৌধুরী
(প্রিভেনটিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ)
* চিকিৎসা ব্যয় হ্রাস: আমাদের দেশের মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ের ব্যক্তিগত খরচ (Out of pocket expenditure) ৭৯ শতাংশ, যা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে হওয়া দরকার.
* ওষুধ ও পরীক্ষার সরকারি অর্থায়ন: সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অপারেশনের সমস্ত সামগ্রী সরবরাহ করতে হবে এবং পরীক্ষানিরীক্ষার অন্তত ৯০ ভাগ সরকারি অর্থে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে.
* অনুপাত ঠিক করা: দেশে ডাক্তার, নার্স ও টেকনোলজিস্টের তীব্র সংকট রয়েছে. নিয়ম অনুযায়ী ১ জন ডাক্তারের বিপরীতে ৩ জন নার্স ও ৫ জন টেকনোলজিস্ট থাকার কথা থাকলেও বাংলাদেশ এর উল্টো পিঠে আছে, যা সংস্কার করা জরুরি.
* উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উন্নয়ন: লজিস্টিক সাপোর্ট ও দক্ষ জনবলের অভাবে রোগীকে জেলা বা কেন্দ্রীয় হাসপাতালে রেফার করতে হয়. কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা চালু করে উপজেলা হাসপাতালগুলোকে চিকিৎসার প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে.
ড. রুমানা হক
(অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাবি)
* সুশাসন ও জবাবদিহিতা: স্বাস্থ্য খাতের এই বিপুল বরাদ্দের সফলতার জন্য সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং একটি শক্তিশালী জবাবদিহিমূলক কাঠামো গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি.

সর্বশেষ - অপরাধ