আন্তর্জাতিক সংকট বিশ্লেষণকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি) এক বিশেষ বিশ্লেষণে জানিয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সৃষ্ট সম্ভাব্য বিরোধ সামাল দেওয়াই হবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে সংস্থাটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, দেড় বছরের রাজনৈতিক রূপান্তরের পথে কিছু অগ্রগতি হলেও নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক আস্থার ঘাটতি এখনো প্রকট। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় দলটির বিশাল এক সমর্থক গোষ্ঠী ভোটের প্রক্রিয়ার বাইরে থাকা রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
আইসিজির সিনিয়র কনসালট্যান্ট থমাস কিন উল্লেখ করেছেন, এবারের নির্বাচন হবে অত্যন্ত তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। মূলত দুটি প্রধান জোটের মধ্যে এই লড়াই সীমাবদ্ধ থাকবে। প্রতিবেদনে ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়নকে সরকারের বড় অর্জন হিসেবে দেখা হলেও সংবিধান, বিচার বিভাগ ও নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনো অনিশ্চয়তা কাজ করছে। এছাড়া পুলিশের ওপর জন-আস্থার সংকট ও তফসিল ঘোষণার পর একাধিক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নির্বাচনী পরিবেশকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
সংস্থাটির মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের স্থিতিশীলতা এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনী ও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার একটি সমঝোতার ওপর টিকে আছে। তবে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে যদি বড় কোনো বিরোধ দেখা দেয়, তবে এই সমঝোতা ভেঙে পড়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। আইসিজি সতর্ক করেছে যে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার আস্থার অভাব ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির নাজুক অবস্থা নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দেশকে নতুন কোনো সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে।



















