চট্টগ্রাম নগরীর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি (প্রাইভেট কার) ছিটকে নিচে পড়ে গিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে নিমতলা এলাকায় বন্দর থানার সামনে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এক সাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন এবং তিনজন আহত হয়েছেন।
বন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হঠাৎ এক্সপ্রেসওয়ে থেকে প্রাইভেট কারটি ছিটকে সড়কে আছড়ে পড়ে। নিহত ব্যক্তিটি এক্সপ্রেসওয়ের নিচ দিয়ে যাচ্ছিলেন সাইকেল নিয়ে। তিনি থানার ভেতরে ছিলেন এবং বিকট শব্দ শুনে বাইরে এসে গাড়িটি উল্টে থাকতে দেখেন। গাড়ির ভেতরে থাকা দুজন সামান্য আহত হন।
সহকারী পুলিশ কমিশনার (বন্দর) মাহমুদুল হাসান জানান, গাড়িটি যে স্থান থেকে ছিটকে পড়েছে, সেখানে একটি বাঁক রয়েছে। তীব্র গতিসম্পন্ন গাড়িটি এক্সপ্রেসওয়ের রেলিংয়ের ওপর দিয়ে নিচে পড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়িটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল বলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনা এবারই প্রথম নয়। গত বছরের আগস্টে পরীক্ষামূলক চালুর পর থেকে এটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বাঁক, চালকদের গতিসীমা না মানা এবং বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা বৃদ্ধির কারণে এখানে গাড়ি চলাচল বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। এর আগে গত বছর পরীক্ষামূলক চালুর পর দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী প্রাণ হারান এবং চলতি নভেম্বরেও দুটি প্রাইভেট কার উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।
যদিও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) বলছে, বাঁকগুলো স্বাভাবিক এবং এখানে চলাচলে কোনো ঝুঁকি নেই। তাদের মতে, ৬০ কিলোমিটার (বাঁকে ৪০ কিলোমিটার) গতিসীমা লঙ্ঘন করে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর কারণেই দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে। কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও চালকদের মধ্যে বাঁকে গতি না কমানো, এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ি থামিয়ে ছবি তোলা বা যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।



















