ইরান যুদ্ধের ৩৫তম দিনে (শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬) দেশটির আকাশসীমায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। ইরানের দাবি অনুযায়ী, তাদের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে দুটি যুদ্ধবিমান, পাঁচটি ড্রোন এবং বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত হয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো এই দিনটিকে পশ্চিমী সামরিক শক্তির জন্য একটি ‘কালো দিন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এই সংকটের জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ফ্লোরিডার পূর্বনির্ধারিত ছুটি বাতিল করে বর্তমানে ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন।
গতকালের অভিযানের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. বিধ্বস্ত বিমানের ক্ষয়ক্ষতি ও অবস্থান
ইরানি বাহিনী (IRGC) এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দেওয়া তথ্যমতে নিম্নোক্ত সরঞ্জামগুলো ধ্বংসের খবর পাওয়া গেছে:
- F-15E যুদ্ধবিমান: দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ই মডেলের যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এর পাইলট উদ্ধার হলেও কো-পাইলট এখনো নিখোঁজ।
- A-10 ওয়ার্টহগ: হরমুজ প্রণালীর কাছে এই ক্লোজ সাপোর্ট বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। এরও একজন ক্রু নিখোঁজ রয়েছেন।
- ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র: ইসফাহানের আকাশে দুটি MQ-9 অ্যাটাক ড্রোন, বুশেহরে একটি হার্মিস ড্রোন এবং খোমেইন ও জানজান প্রদেশে দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে।
২. উদ্ধার অভিযানে বাধা
নিখোঁজ সেনাসদস্যদের উদ্ধারে পাঠানো দুটি ‘ব্ল্যাক হক’ হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে ইরান গুলি চালিয়েছে। তবে হেলিকপ্টারগুলো বড় কোনো ক্ষতি ছাড়াই তাদের অভিযান অব্যাহত রাখতে পেরেছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, ইরান সরকার বিধ্বস্ত বিমানের পাইলটদের জীবিত ধরিয়ে দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছে।
৩. ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা
আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের ‘মজিদ ইনফ্রারেড-গাইডেড সিস্টেম’ এবং নতুন সমন্বিত প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের কারণে শত্রুপক্ষের স্টিলথ প্রযুক্তি (যেমন F-35) মোকাবিলা করা সম্ভব হচ্ছে। গত ১৯ মার্চ তারা প্রথমবারের মতো একটি এফ-৩৫ বিমানে আঘাত হানার দাবি করেছিল, যা এই যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৪. মার্কিন ও ইসরায়েলি প্রতিক্রিয়া
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) শুরুতে ক্ষয়ক্ষতির খবর অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে ভিডিও ফুটেজ প্রকাশের পর কিছু তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে নিখোঁজ ক্রুদের উদ্ধারে একটি বড় মাপের অপারেশন পরিচালনা করছে মার্কিন বাহিনী।
মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বিশ্ববাজারের জ্বালানি রুট এবং ভূ-রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধের এই বিস্তৃতি আন্তর্জাতিক মহলে চরম উদ্বেগ তৈরি করেছে।



















