ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় জলসীমায় চাঞ্চল্যকর এক অভিযানের মাধ্যমে আরও একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে মার্কিন বাহিনী। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম এই জাহাজ আটকের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। পেন্টাগনের সরাসরি সহায়তায় মার্কিন কোস্ট গার্ড এই রুদ্ধশ্বাস অভিযানটি পরিচালনা করে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর মধ্যে ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহনের ওপর এটি যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বড় ধরনের আঘাত, যা ওই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
এই অভিযানের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ক্রিস্টি নোয়েম সাফ জানিয়েছেন যে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে তেলের পরিবহন বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ভেনেজুয়েলা থেকে পাচার হওয়া এই তেলের লভ্যাংশ ওই অঞ্চলে মাদকসন্ত্রাস ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অর্থ জোগাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। মূলত এই অর্থপ্রবাহ বন্ধ করতেই পেন্টাগন ও কোস্ট গার্ডের এই কঠোর পদক্ষেপ। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার ওপর ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক’ নৌ-অবরোধের নির্দেশ দিয়েছিলেন, যার অধীনে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত যেকোনো জাহাজ আটক করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে মার্কিন বাহিনীকে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং ‘রাষ্ট্রীয় জলদস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে ভেনেজুয়েলা সরকার। দেশটির কর্তৃপক্ষের মতে, গভীর রাতে চালানো এই অভিযানটি স্রেফ চুরি এবং আন্তর্জাতিক জলদস্যুতার একটি গুরুতর উদাহরণ। ভেনেজুয়েলার পক্ষ থেকে এক কড়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক নৌ-সীমায় দস্যুর মতো আচরণ করছে যা বিশ্বশান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ। এই ঘটনার ফলে ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব এখন এক নতুন ও বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে।



















