মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার লাভলু মোল্লা শিশির ফেসবুকে শেখ হাসিনার পক্ষে একটি স্ট্যাটাসসহ ফটোকার্ড শেয়ার করেন। তার এই পোস্ট ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, তিনি ‘গণহত্যার দায়ীদের পক্ষ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন’ এবং দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সোমবার (১৭ নভেম্বর) মধ্যরাতে পুলিশ লাভলু মোল্লা শিশিরকে তার বাসা থেকে আটক করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়। ডাকসুর নির্বাচিত নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “লাভলুরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে এলাম। গণহত্যাকারী টিচারদের ব্যাপারেও আমাদের একই অবস্থান থাকবে। কেউ তোষামোদ করলে বা ক্ষমতার লোভে এলে তাদেরও হিসাব নেওয়া হবে। আমরা ২০০০ শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ইনসাফ আনার শপথ নিয়েছি।”
শিক্ষার্থীসূত্রে জানা যায়, গত বছরের ছাত্র-জনতার দীর্ঘ আন্দোলনের মধ্যেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অফিসে পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্বে বহাল ছিলেন, যারা ছাত্রলীগপন্থী হিসেবে পরিচিত। পরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগে তাদের সরিয়ে রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। ওই পাঁচজনের একজন ছিলেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার লাভলু মোল্লা শিশির, যিনি ছাত্রজীবনে মাস্টারদা সূর্য সেন হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন।
ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়েরও কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি লেখেন, “হাসিনার পক্ষে পোস্ট দেওয়া ঢাবির ডেপুটি রেজিস্ট্রার কট। প্রত্যেকটা ইঁদুরকেই গর্ত থেকে টেনে বের করা হবে।”
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর জানান, কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে থানায় সোপর্দ করেছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।



















