২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। ঐতিহাসিক সেই আন্দোলনের স্মৃতি ও শহীদদের বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগকে স্মরণ করে ‘জুলাইয়ের প্রথম প্রহরে’ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক বিশেষ মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচির আয়োজন করে সংগঠনটি। গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে (১ জুলাইয়ের প্রথম প্রহরে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার বেদিতে অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। চব্বিশের ছাত্র-জনতার সেই রক্তঝরা দিনগুলোর সূচনা লগ্নকে স্মরণ করতেই মূলত বছরের এই বিশেষ সময়ে কর্মসূচিটি হাতে নেয় ছাত্রদল।
এক মিনিট নীরবতা ও শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণ
অনুষ্ঠিত এই বিশেষ কর্মসূচিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আঞ্চলিক ইউনিটের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। কর্মসূচির শুরুতেই নেতাকর্মীরা হাতে জ্বলন্ত মোমবাতি নিয়ে শহীদ মিনারের মূল বেদিতে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান নেন। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াইয়ে প্রাণ উৎসর্গ করা সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মোমবাতির আলো এক আবেগঘন ও স্মরণীয় আবহের সৃষ্টি করে।
আন্দোলনের চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখার প্রত্যয়
মোমবাতি প্রজ্বলন শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, চব্বিশের জুলাই-আগস্টে তরুণেরা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এ দেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। শহীদদের এই আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ফ্যাসিবাদের চিরতরে অবসান ঘটিয়ে একটি সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন করাই শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা প্রদর্শন হবে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন। ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও আদর্শকে ধারণ করে আগামী দিনে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রের সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


















