মর্মান্তিক দুর্ঘটনার বিবরণ ওমরাহ হজ পালন শেষে সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে বাসায় ফেরার পথে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন লক্ষ্মীপুরের একই পরিবারের চারজন সদস্যসহ মোট পাঁচজন। আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) দুপুরে নিহতদের স্বজন ও স্থানীয় প্রশাসন এই হৃদয়বিদারক খবরটি নিশ্চিত করেছেন। বাংলাদেশ সময় গতকাল রবিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত প্রবাসীরা হলেন সৌদি প্রবাসী মিজানুর রহমান মিজান (৪০), তাঁর স্ত্রী ফারজানা আক্তার সুমি (৩০), তাঁদের দুই মেয়ে মেহের আফরোজ (১২) ও সুবহা আক্তার (১৮ মাস), এবং গাড়িচালক মো. জিলানী বাবর (৩০)।
আহত ও বর্তমান অবস্থা এই দুর্ঘটনায় মিজানের মেঝো মেয়ে ফাইজা আক্তার (১১) অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও বর্তমানে সে গুরুতর আহত অবস্থায় জেদ্দার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। নিহত মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সপরিবারে সৌদিতে বসবাস করছিলেন এবং গত ৩ ফেব্রুয়ারি ওমরাহর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। দীর্ঘ ১৬ বছরের প্রবাস জীবনের ইতি যে এভাবে ট্র্যাজেডির মাধ্যমে ঘটবে, তা মেনে নিতে পারছেন না তাঁর গ্রাম নলচরার বাসিন্দারা।
স্বজনদের আহাজারি ও সরকারি পদক্ষেপ নিহতদের বড় ভাই বাহারুল আলম ও মামাতো ভাই রিফাতুল ইসলামের মাধ্যমে এই খবর লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাশিদ বিন এনাম শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন, “এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক একটি ঘটনা। মরদেহগুলো দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের দাপ্তরিক সহযোগিতা এবং দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হবে।”
নিহতদের পরিচয় এক নজরে:
- মিজানুর রহমান মিজান: রামগঞ্জ উপজেলার নলচরা গ্রামের বাসিন্দা।
- ফারজানা আক্তার সুমি: মিজানের স্ত্রী।
- মেহের ও সুবহা: মিজানের দুই কন্যা সন্তান।
- মো. জিলানী বাবর: গাড়িচালক, রামগঞ্জের বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা।



















