প্রতারক ও পেশাদার অপরাধীরা এখন প্রযুক্তি এড়িয়ে নতুন কৌশলে অপরাধ করছে। মোবাইল বা ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবহার না করেই তারা ‘প্রযুক্তিমুক্ত নেটওয়ার্ক’ গড়ে তুলেছে—যার মাধ্যমে রেকি থেকে অপারেশন পর্যন্ত সব কাজ হয় মৌখিকভাবে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা করছে তারা।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও মাদারীপুরের ৩০ জনের বেশি সদস্য নিয়ে একটি আন্তজেলা ডাকাতচক্র সক্রিয়। তারা একাধিক ডাকাতি ও চুরির মামলার আসামি। রেকি সদস্যরা আগে থেকে টার্গেট চিহ্নিত করে লোকেশন জানায়, এরপর অপারেশন টিম সেখানে গিয়ে ডাকাতি চালায়। কোনো কারণে পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে মহাসড়কে ডাকাতি করে পালিয়ে যায় তারা।
সম্প্রতি উত্তরা থেকে ডিবি পুলিশ পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে, যারা মোবাইল ছাড়াই ডাকাতি করছিলেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে ২০ সদস্যের ডাকাতদলের তথ্য মিলেছে।
এছাড়া রাজধানীর মৌচাকের ফরচুন শপিং মলের শম্পা জুয়েলার্স থেকে ৫০০ ভরি সোনা চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদেও দেখা যায়—তারা তিন মাসে ৩১ বার রেকি করলেও কখনও মোবাইল ব্যবহার করেনি। পরবর্তীতে চুরির মাল ভাগ করে নতুন সিম ও ফোন ব্যবহার করে। মূল হোতা শাহিন মাতবর ভুয়া এনআইডি তৈরি করে নিজের পাঁচ মামলার তথ্য গোপন করেন।
তদ্রূপ, যাত্রাবাড়ীর ‘লিলি গোল্ড হাউজ’-এর ১২৫ ভরি সোনা চুরির ঘটনায় রাসেল মিয়া মোবাইল চালু করায় ধরা পড়লেও তার দুই সহযোগী মোবাইল বন্ধ রেখে পালিয়ে যান।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন,
“অপরাধীরা প্রযুক্তি ব্যবহার না করলেও গ্রেপ্তার থেকে রেহাই পাচ্ছে না। কারণ তারা অপরাধের সময় এমন কিছু ক্লু রেখে যায়, যা আমাদের রহস্য উদ্ঘাটনে সহায়তা করে। আগে মোবাইল না থাকলেও অপরাধীরা ধরা পড়েছে, এখন তো সিসি ক্যামেরার ফুটেজও পাওয়া যাচ্ছে।”


















