কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিংয়ে ভয়াবহ ট্রেন-বাস সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ ২০২৬) দিবাগত রাত ৩টার দিকে দুর্ঘটনার পর থেকেই ঢাকাগামী ‘ওয়ান আপ’ মেইল ট্রেনটি দুর্ঘটনাস্থলে আটকে আছে। ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনে বাসের একাংশ আটকে থাকায় এবং রেললাইনের ওপর ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্ধার কার্যক্রম ও রেলওয়ের বর্তমান অবস্থা:
- রিলিফ ট্রেন: রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেন ও বাসটি সরাতে আখাউড়া থেকে একটি শক্তিশালী রিলিফ ট্রেন বা উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
- শিডিউলে প্রভাব: যেহেতু ঈদের দিন কেবল এই মেইল ট্রেনটিই চলাচল করছিল, তাই অন্য কোনো যাত্রীবাহী ট্রেনের শিডিউল এখন পর্যন্ত বড় ধরনের বিপর্যয়ে পড়েনি। তবে আজ রোববার সকাল থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনগুলো কুমিল্লা পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। উদ্ধার কাজ দ্রুত শেষ করে লাইন চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা চলছে।
- তদন্ত ও কারণ: ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের দাবি, রেলগেটে দায়িত্বরত সিগন্যালম্যানের অবহেলার কারণেই ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনের বাসটি লাইনের ওপর উঠে যায়। সিগন্যাল না থাকা এবং গেট খোলা রাখাকেই এই ১২ জন নিহতের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এক নজরে দুর্ঘটনার চিত্র: গতরাত ৩টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে ট্রেনটি বাসকে ধাক্কা দিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে কচুয়া চৌমুহনী এলাকায় নিয়ে যায়। নিহত ১২ জনের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ৩ জন শিশু। আহত অন্তত ১০ জন বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে সময়মতো সাড়া না পাওয়ায় উদ্ধার কাজে কিছুটা দেরি হয়েছে বলে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।



















