ভারতে জাতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র আন্দোলন এখন সরকারবিরোধী এক অভূতপূর্ব গণবিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। রাজধানী নয়াদিল্লির কোনাট প্লেসের কাছে যন্তরমন্তরে দিনদিন জমায়েত বাড়ার পাশাপাশি আন্দোলন গড়িয়েছে ভারতের পার্লামেন্ট চত্বরেও। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মূল দাবি থেকে তা এখন সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগের দাবিতে পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবার বিরোধী জোটের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করার পর গতকাল পার্লামেন্ট চত্বরে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী সংসদ সদস্যরা কালো পোশাক পরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব ও কংগ্রেসের পবন খেরাসহ বিরোধী নেতারা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি দমনপীড়নের তীব্র নিন্দা জানান।
বিক্ষোভের উত্তাপ পুরো দিল্লিতে ছড়িয়ে পড়ায় এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে লোককল্যাণ মার্গ, রাজীব চক, কেন্দ্রীয় সচিবালয়সহ দিল্লির অন্তত ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে দিল্লি মেট্রোরেল করপোরেশন (ডিএমআরসি)। আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একে আইনি মানদণ্ডের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে, যদিও আন্দোলনকারীদের একটি আবেদনের শুনানি করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা নিশ্চিত করেছেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তরুণ শিক্ষার্থীরা যন্তরমন্তর ছেড়ে যাবেন না।


















