অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ মন্তব্য করেছেন যে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বাড়ানো হলে সবাই সঞ্চয়পত্র কিনতে আগ্রহী হবে এবং ব্যাংকে টাকা রাখবে না, যা ব্যাংকগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। তিনি শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বাড়িয়ে দিলে সবাই সঞ্চয়পত্র কিনবে, ব্যাংকে টাকা রাখবে না। ব্যাংকেও তো তারল্যের ব্যাপার আছে। ব্যালেন্স করে দেখতে হবে। সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে দিলে ব্যাংক টাকা পাবে কোত্থেকে?”
খারাপ ব্যাংকগুলোর বিষয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক এগুলোকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে এবং ইসলামী ব্যাংক এর একটি উদাহরণ, যেখানে আস্থা ফিরে আসছে। অন্যান্য ব্যাংকগুলোর জন্য ‘ব্যাংক রেজুলেশন অ্যাক্ট’ করা হয়েছে, যার মূল শর্ত হলো আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “কারো টাকা মার যাবে না। একটু সময় লাগতে পারে। কারণ টাকা নিয়ে চলে গেছে অনেকে। পৃথিবীর কোনো দেশে এরকম ঘটনা ঘটেনি।”
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চলমান অস্থিরতা প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সমস্যা সমাধানে তাদের সাথে আলোচনা চলছে এবং আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এজন্য পাঁচ সদস্যের একটি শক্তিশালী কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, সরকার নিশ্চিত করছে যেন বিনিয়োগকারীদের ব্যবসার জন্য বারবার বিভিন্ন দপ্তরে যেতে না হয়। সকল ধরনের ছাড়পত্র কেন্দ্রীয়করণের চেষ্টা চলছে। এসময় উপদেষ্টার সাথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম, নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব চৌধুরী, নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিয়াস বসাক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



















