মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাত চরম রূপ ধারণ করেছে। ইরানে টানা ১০ম রাতের মতো বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। দেশটির কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সিরিক, বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, চাবাহার এবং কোনারাক এলাকার বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় দফায় দফায় বিকট বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। গত এক সপ্তাহে ইরানি হামলায় অন্তত তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক কড়া হুঁশিয়ারিতে বলেছেন, মার্কিন সৈন্যদের রক্তের বিনিময়ে ইরানকে বহুগুণ বেশি খেসারত ও মূল্য দিতে হবে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর তেহরানের হামলার সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের সামরিক কমান্ড কেন্দ্র, নৌঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে, হাত গুটিয়ে বসে নেই ইরানও; দেশের সেনাবাহিনী দাবি করেছে যে তারা কুয়েতের ‘ক্যাম্প আরিফজান’-এ অবস্থিত মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে পাল্টা মারাত্মক হামলা চালিয়েছে।
উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে ওমান উপকূলে আবারও একটি তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা আন্তর্জাতিক নৌপথকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে। একই সাথে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করায় বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের সংকট ও সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা



















