সিলেটের হাওরাঞ্চলে বৈশাখের চিরচেনা উৎসবের আমেজ এবার বিষাদে পরিণত হয়েছে। আগাম বন্যা ও টানা বৃষ্টির কবলে পড়ে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে হাওরবাসীর সুখের স্বপ্ন এখন ভেঙে খানখান। সিলেট বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতায় চার জেলায় এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার ৯১৪ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭৫৫ কোটি টাকা। বিশেষ করে সুনামগঞ্জের কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন, যেখানে ২০ হাজার ৫৫৬ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ সহায়তা দিতে আজ মঙ্গলবার হাওরাঞ্চল সফরে যাচ্ছেন কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুল রশিদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
শ্রমিক সংকট ও পানির দরে ধান বিক্রি হাওরে বর্তমানে ধান কাটার মৌসুম চললেও তীব্র শ্রমিক সংকট ও হারভেস্টার মেশিনের অভাবে অনেক কৃষক কাঁচা-পাকা ধান ঘরে তুলতে পারছেন না। যারাও বা কষ্ট করে ধান কাটছেন, রোদ না থাকায় সেই ধান শুকানো যাচ্ছে না, ফলে ধানে অঙ্কুর গজিয়ে নষ্ট হচ্ছে। নিরুপায় হয়ে অনেক কৃষক সংসার চালাতে ভেজা ধান ফড়িয়াদের কাছে মাত্র ৬০০-৭০০ টাকায় বিক্রি করে দিচ্ছেন, যা সরকারের নির্ধারিত দর ১,৪৪০ টাকার তুলনায় অর্ধেক। যদিও কৃষি কর্মকর্তাদের অনুরোধে স্থানীয় মিল মালিকেরা মানবিক কারণে কৃষকের ধান শুকিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন, তবুও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে হাহাকার কমছে না। সুরমা নদীর পানি প্রতি ঘণ্টায় ১ সেন্টিমিটার করে বৃদ্ধি পাওয়ায় হাওর রক্ষা বাঁধগুলোও নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সরকারি সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় সরকার ইতিমধ্যে সিলেটসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে ধান কেনা শুরু করেছে। আঞ্চলিক খাদ্য অফিসের মাধ্যমে ৪৪টি গুদামে ৪৩ হাজার ৬৯৪ মেট্রিক টন ধান ও ৪১ হাজার ৯৩৩ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেখানে সিলেটে বন্যা নিয়ন্ত্রণে ৪ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘জিয়া খাল’ পুনঃখননের মাধ্যমে সেচ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল করছেন, সেখানে হাওরের এই আকস্মিক দুর্যোগ কৃষকদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছে। অনেকেই প্রতি বছর এমন লোকসানের কারণে কৃষি কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।


















